আক্কেলপুরে অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে গণকবর

বধ্যভূমি

নিয়াজ মোরশেদ,জয়পুরহাট: দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৭ বছরেও আক্কেলপুরের বেলার মাঠে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গণকবরটি সংরক্ষণ  করা হয়নি। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার সাক্ষ্য বহনকারী গণকবরের এই স্থান।

মহান মুক্তিযুদ্ধে ওই গণকবরে শহীদদরে মধ্যে রয়েছে- উপজেলার গোপীনাথপুরের আবের জোয়ারদার,মোকলেছ, বানদিঘী গ্রামের নবির উদ্দিন,মাটিহাস গ্রামের নজের প্রামানিক,নছির প্রামানিক,আছের প্রামানিক, ডা.বুলচান এবং তোফাজ্জল হোসেন তোফা। আত্মহতিদের মধ্যে আছেন নাম নাজানা আরো তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ছয়জন পাড়োয়ান।

ওই গণকবরে প্রতিবছর বিভিন্ন দিবসে শহীদদের স্বজনেরা ও বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা এই গণকবরে শ্রদ্ধা জানাতে যান। দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া প্রিয়জনের কথা স্মরণ করে নীরবে চোখের জল ফেলে তাঁরা নীরবেই ফিরে যান। সেই গণকবরটি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর সদরে বেলার মাঠে। সেখানে দেশ স্বাধীনের পর আজও চলাচলের কোন রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। রাস্তার অভাবে মুক্তিযোদ্ধারা ওই গণকবরটিতে শ্রদ্ধা জানাতে যেতে পারেন না। মুক্তিযোদ্ধারা বর্তমান সরকারের আমলেই রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলা সদরে দুটি গণকবর রয়েছে। এর একটি বদলগাছী-আক্কেলপুর বাইপাস সড়কের পাশে আমুট্ট গ্রামে এবং অপরটি মহিলা কলেজসংলগ্ন বেলার মাঠে। ১৯৯৬ সালে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে বেলার মাঠের গণকবরটিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা জানান, মাঠের ভেতরে গণকবরটি থাকায় সেখানে আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে তাঁরা একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভায় লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু আজও রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। রাস্তার অভাবে তাঁরা বিশেষ দিনে গণকবরটিতে যেতে পারেন না।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নবিবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দিবসে গণকবরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন চালাচলের জন্য রাস্তা করা হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য এখন রাস্তা নির্মাণ হয়নি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেকুর রহমান সাদেক বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে আজও আমরা গণকবরে চলাচলের কোন রাস্তা পাইনি। রাস্তা না থাকায় মুক্তিযোদ্ধারা গণকবরটিতে যেতে হয় কাদাঁ মাটির আইল দিয়ে। অনেক বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে যেতে পারেন না। দিবস এলে সবাই বলে রাস্তা করা হবে কিন্তু দিবস পার হলেই তা ভূলে যায়।

পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী জানান, গণকবরটিতে রাস্তা নির্মাণ করতে হলে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। জমির মালিকেরা যদি চলাচলের জন্য একটু জায়গা দেয় তাহলে পৌরসভার পক্ষ থেকে রাস্তা নির্মাণ করা হবে।