আক্কেলপুরে বাড়লো ‘ক’ ক্যাটাগরির মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা

নিয়াজ মোরশেদ: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় ‘ক’ ক্যাটাগরির মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেড়েছে। গত রোববার সন্ধ্যায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কর্মকর্তাদের তালিকাটি হস্তান্তর করার পর ক,খ ও গ এই তিনটি ক্যাটাগরিতে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

পরে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের নোটিশ র্বোডে তালিকা টাঙানো হয়েছে।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে ১৩৫ টি, সরাসরি ১৫ টি ও ক্রুটিপূর্ন ১২ টি আবেদন জমা পড়েছিল। গত ২১ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয়ে চলতি মাসে শেষ হয়। গত রোববার উপজেলা নিবার্হী অফিসারের কার্যালয়ে কমিটির সভাপতি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডাার আমজাদ হোসেন, সদস্য সচিব উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আফরোজাসহ অন্য পাঁচজন সদস্য নিয়ে একটি বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে ওই দিন সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটির সকল সদস্যের ঐক্যমতের ভিক্তিতে ‘ক’ ক্যাটাগরি, দ্বিধাবিভক্তি মতামতের ভিক্তিতে ‘খ’ ক্যাটাগরি আর বাতিলের তালিকায় থাকা ‘গ’ ক্যাটাগরির। ‘ক’ ক্যাটাগরিতে ৪২ জন, ‘খ’ ক্যাটাগরিতে ১৩ জন, আর বাতিলের তালিকায় ১০৪ জনের নাম রয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব শিগগিরই প্রকাশিত তালিকা ঢাকায় পাঠাবেন।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তখন ‘ক’ তালিকায় ১৯ জন, ‘খ’ তালিকায় ১৩ জন আর বাতিলের তালিকায় ১০৯ জনের নাম ছিল। গত ৫ জুলাই তালিকাটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত কথা ছিল। দ্বিধাবিভক্তি তালিকায় কমিটির সদস্য সচিব ইউএনও আফরোজা আখতার বাদে অন্য ছয়জন সদস্যই মন্তব্যে কলামে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মন্তব্যে করেছিলেন। একারণে তালিকা কিছুটা প্রকাশে বিলম্ব হয়। কমিটির সদস্য সংখ্যা গরিষ্টতা মতামতের ভিত্তিতে দ্বিধাবিভক্তি থাকায় তালিকা শেষ পর্যন্ত তালিকা প্রকাশের আগে সেটি কিছুটা সংশোধন আনা হয়।

কমিটির দ্বিধাবিভক্তি ‘খ’ তালিকায় এলাকার অনেক প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব ইউএনও আফরোজা আখতার দ্বিধাবিভক্তি তালিকার ১২ জনের মন্তব্যে কলামে ‘যুদ্ধকালীন সহযোদ্ধা নেই এবং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সনদ সঠিক প্রতিয়মান হয় না বলে মন্তব্য করেন।

যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকাশিত তালিকায় অনেক অমুক্তিযোদ্ধার নাম দেখে মুক্তিযোদ্ধারা হতাশ হয়েছেন। তাঁরা বলছেন, কমিটির সকল সদস্যের ঐক্যমতের ভিত্তিতে ক তালিকার ও দ্বিধাবিভক্তি খ তালিকায় থাকা অধিকাংশই ব্যক্তি অমুক্তিযোদ্ধা। এসব ব্যক্তিরা যাচাই-বাছাইয়ের সময় যে সব প্রমাণপত্র উপস্থাপন করেছিলেন সেগুলো সঠিক ছিল না। আবেদনপত্রে সহযোদ্ধা হিসেবে যাঁদের স্বাক্ষী মানছিলেন তাঁদের অনেক স্বাক্ষীই দেননি। তারপরও তাঁদের নাম তালিকায় উঠেছে। যাচাই-বাছাই কমিটি স্বাধীন ও চাপমুক্ত থেকে কাজ করতে পারেনি। যাচাই-বাছাই কমিটি স্বাধীন ও চাপমুক্ত থেকে কাজ করলে নতুন ৫-৭ জনের বেশি নাম তালিকায় থাকতো না। এতে অনেক ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা মুুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্তির আশঙ্কা রয়েছে।

জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান আজ সোমবার বলেন, তালিকা প্রকাশের কথা সহকর্মীরা আমাকে জানিয়েছেন। তালিকায় অমুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের নাম রয়েছে বলে জেনেছি। তবে ইউএনও সাহেব সঠিক ভূমিকা রেখেছেন।

যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমা-ার নবীবুর রহমান বলেন, সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই হয়েছে। যাছাই-বাছাইয়ে ভাতাভোগী চারজন ব্যক্তি বাদ পড়েছেন। এই চারজন হলেন, নজরুল ইসলাম, শেখ আব্বাস আলী, ইসমাইল হোসেন ও আবু তাহের।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ইউএনও আফরোজা আখতার বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকা যদি কারও আপত্তি থাকে তাহলে আপিলের সুযোগ রয়েছে।