আক্কেলপুরে যৌতুকের দাবীতে অন্তঃসত্বা গৃহবধুকে নির্যাতন

নিয়াজ মোরশেদ: বিয়ের ৮ বছর পর যৌতুকের দাবীতে নির্যাতন চালায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের এক অন্তঃসত্বা গৃহবধূ সেতু বানুর উপর। এখন চলছে শ্বশুরবাড়ির অমানুষিক নির্যাতন। শুধু তাই নয় ৮ বছরের সংসারে ৭বছরের একটি ছেলে সন্তান ও নয় মাসের আন্তঃসত্বা স্ত্রীকে রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করেন স্বামী আব্দুস সাত্তার।

সেতু বানুর অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে চলছে এই নির্যাতন। বর্তমানে মুমুর্ষ অবস্থায় আক্কেলপুর হাসপাতালে চলছে তাঁর চিকিৎসা। প্রশাসন বলছে, ঘটনার তদন্ত করে অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

জানা গেছে, উপজেলার চক্রপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের সাথে ঘর বেঁধে ছিলেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বেগুন জোয়ার গ্রামের সেতু বানু। বিয়ের পর ভালোই চলছিল সংসার। সংসার জীবনে ৭ বছরের একটি পুত্র সন্তান ও বর্তমানে ৯ মাসের অন্তঃসত্বা সে। কিন্তু, বছর দুয়েক পর দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আব্দুস সাত্তার ও তার পরিবার। আশি হাজার টাকা দেওয়াও হয়। কিন্তু তারপরও নির্যাতন কমেনি। গরীব বাবা দাবীকৃত যৌতুক পুরণ করতে পারেনি। এরপর নেমে আসে তাঁর উপর শারিরিক নির্যাতন। সেতু বানু এক ফাকে অভিযোগ করেন উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কাছে। অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী ও তাঁর পরিবার মধ্য যুগীয় কায়দায় অমানষিক নির্যাতন করে বেধড়ক পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এমন এই নির্যাতনের সুষ্ঠ বিচারের দাবী জানালেন এই নিয়াতিতা। এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করলেন সেত বানুর শ্বাশুরী।

আক্কেলপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আশফাক রাসেদ রহমান বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গর্ভের সন্তানের সঠিক তথ্য দেওয়া যাবে। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আক্কেলপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সিরাজুল ইসলাম  বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, যেহেতু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে সেতু বানু সেখান থেকে এখনও কোন লিখিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তার পরেও আমি নিজ উদ্যোগে আমি পুলিশ পাঠিয়ে ছিলাম তার বাড়িতে স্বামীকে ধরতে। অন্ত:সত্বার কারনে এখনও মামলা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা চলছে।

সরকার যখন নারী নির্যাতন বন্ধে বদ্ধ পরিকর, সেই মুহর্তে পাল্লা দিয়ে চলছে এ উপজেলায় নারী নির্যাতনের ঘটনা। তাই নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন এমনটাই প্রত্যাশ করছেন উপজেলাবাসী।