আক্কেলপুরে লক্ষ্যমাত্রার অধিক আলু চাষের সম্ভাবনা

নিয়াজ মোরশেদ.জয়পুরহাট:
আবহাওয়া অনূকুলে,সার ও বীজ পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার কারণে এবার জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সর্বত্রই আলু চাষীরা জমিতে আলুর বীজ রোপন ও পরিচর্চা করতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। আবার কেউ কেউ আগাম আলু রোপন করায় জমি থেকে আলু উঠিয়ে বাজারে বিক্রি করছে। ফলন ভাল ও দাম ভাল থাকায় কৃষরা এবার বেশ খুশী রয়েছেন। এবার উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে আলু চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, এবার মোট ৬,০০০ (ছয় হাজার) হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এরিই মধ্যে উপজেলায় ৪,৮০০( চার হাজার আটশত) হেক্টর জমিতে আলু রোপন করা হয়েছে। আর কিছুদিন পর তা ৬,০০০(ছয় হাজার) হেক্টর ছারিয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এসব আলুর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল (উফসি) জাতের কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, চকুরী, তিলকপুরী ও গ্যানেলা । কৃষকরা আগাম আলু রোপন শুরু করে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। তবে আলু রোপনের উত্তম সময় নভেম্বরের শুরু থেকে ৩০ শে নভেম্বর পর্যন্ত । এরিই মধ্যে বাজারে গুটিলাল আলু উঠতে শুরু করেছে । বীজ আলুর চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এবং বহুজাতিক কোম্পানী গুলো চাহিদার শতকারা ৩৫-৪০ভাগ আলু বীজ সরবরাহ করে থাকে। আর বাকি ৬০ ভাগবীজ কৃষকরাই উৎপাদন করে থাকেন। এবার পর্যাপ্ত পরিমান বীজ,সার মজুদ থাকার পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। এ কারণে কৃষি অফিস ধারনা করছে এবার লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে আলু চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাষিদের কেউ কেউ আলু বীজ রোপন করছেন। আবার অনেকেই আলু খেতের পরিচর্যা করছেন। উপজেলার তিলকপুর গ্রামের আলু চাষি লোকমান বলেন, আমি ৬৬শতক জমিতে গ্যানেলা ও স্থানীয় তিলকপুরী জাতের আলু রোপন করেছি। আশা করছি ভাল ফলন হবে।

ভদ্রকালী গ্রামের আলু চাষি বাবলু কবিরাজ বলেন,আমি তিন বিঘা জমিতে আগাম গুটি লাল আলু রোপন করেছিলাম এখন আমি আলু বাজারে বিক্রি করছি প্রতি কেজী ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজী দরে। দাম ভাল থাকায় আশা করছি এবার বেশ লাভ হবে। এছারও আরো ২ বিঘা জমিতে ডায়মন্ড ও কার্টিনাল জাতের আলু রোপন করেছি। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনকুলে রয়েছে। এই রকম পুরো মৌসুমে আবহাওয়া ভাল থাকেল ফলন ভাল হবে।

আলু চাষিরা আশা করছেন প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হবে। প্রতি বিঘা জমিতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার আলু পাওয়া যাবে। এ বার সার ও বীজ সংকট নেই। এ কারণে চাষিদের কোন ঝুকি বা ঝামেলায় পড়তে হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, আলু স্বল্পমেয়াদী ফসল। এছাড়া আলুতে উর্বর থাকে বলে অন্য ফসল চাষে সার কম লাগে এ কারণে তাদের মাঝে আলু চাষে প্রচুর আগ্রহ জেগেছে। ফলে ধারনা করা হচ্ছে এবার আমাদের ল্য ৬,০০০(ছয় হাজার) হেক্টর কিন্তু এটাও ছাড়িয়ে যাবে। এরিই মধ্যে বাজারে গুটিলাল আলু উঠতে শুরু করেছে বাজারে দাম ভাল থাকায় কৃষকেরা বেশ খুশী।