আজকের এই দিনে বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যু

চ্যানেল ডেস্ক :  ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সে সব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।

তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে বিজ্ঞাপন চ্যানেলর পাঠকদের জন্য নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিন।

২৩ নভেম্বর, ২০১৬, বুধবার। ০৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনা
•    ১৮৯০ – নেদারল্যান্ড থেকে লুক্সেমবার্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
•    ১৯১৬ – প্রথম কার্ল অস্ট্রিয়ার সিংহাসন আরোহণ করেন।
•    ১৯২২ – রাজদ্রোহের অভিযোগে কবি কাজী নজরুল ইসলাম গ্রেফতার হন।
•    ১৯৬৪ – ব্রিটেনে সর্বপ্রথম বাণিজ্যিক বেতার কেন্দ্র চালু হয়।
•    ১৯৯৫ – বসনিয়ায় শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ব্যক্তি
•    ১৮৩৭ – নোবেলজয়ী ওলন্দাজ পদার্থবিদ ভ্যান ডার ভালসের জন্ম।
•    ১৮৮৩ – সাহিত্যিক প্যারীচাঁদ মিত্রর মৃত্যু। ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় জন্ম নেওয়া প্যারীচাঁদের ছদ্মনাম ছিল টেকচাঁদ ঠাকুর। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় পারিবারিক পরিমণ্ডলে। পরে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন। একজন সমাজহিতৈষী ও সংস্কৃতিসেবী হিসেবে বাঙালির জাগরণে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। বাঙালি সমাজের হিতার্থে তিনি বহু সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন। প্যারীচাঁদ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সম্মানসূচক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। সাংবাদিকতা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্যই তিনি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- আলালের ঘরের দুলাল (তার শ্রেষ্ঠ এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস), মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কী উপায়, রামারঞ্জিকা, কৃষিপাঠ, বামাতোষিণী, A Biographical Sketch of David Hare, The Spiritual Stray Leaves ও Stray Thought of Spiritualism ইত্যাদি।
•    ১৯৩৭ – পদার্থবিজ্ঞানী ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর মৃত্যু। ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলায় জন্ম নেওয়া বসুর এগারো বছর বয়সে কলকাতায় চলে যায় তার পরিবার। তারপর থেকে সেখানেই বসবাস তাদের। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রিধারী বসু বিদ্যুৎতরঙ্গের আলোকধর্মী প্রবণতার মধ্যে প্রতিফলন, প্রতিসরণ, সর্বমোট প্রতিফলন, সমবর্তী বিচ্ছুরণ ইত্যাদি বিষয়ে তিনি গবেষণা পরিচালনা করেন। আকাশ-তরঙ্গ ও বৈদ্যুতিক চুম্বক তরঙ্গের ওপর গবেষণা করতে গিয়ে জগদীশচন্দ্র বেতার বার্তার সূত্র আবিষ্কার করেন। বিনাতারে শব্দ প্রেরণের ‘ক্রিস্ট্যাল রিসিভার’ নামক যে বেতার যন্ত্রটি তিনি আবিষ্কার করেন তার সাহায্যে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে প্রায় এক মাইল দূরে অবস্থিত তার বাসভবনে সাংকেতিক শব্দ প্রেরণ করতে সক্ষম হন। এছাড়া তিনি নিজের উদ্ভাবিত যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করেন যে অদৃশ্য-আলোকেও দৃশ্য-আলোকের সকল ধর্ম বর্তমান। তার গবেষণা কর্মের ওপর ভিত্তি করেই ১৮৯৬ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিএসসি ডিগ্রি প্রদান করে। ক্ষুদ্র শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি সম্পর্কিত তার গবেষণা থেকে আধুনিক তরঙ্গপথের ধারণার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তার পরিচালিত গবেষণা ও আবিষ্কৃত যন্ত্রসমূহের সঙ্গে রাডার প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ের যন্ত্রসমূহের ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্য রয়েছে। তার গবেষণা উদ্ভিদবিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে তোলে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহারিক ও গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানের সূচনা করে। ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করে। বিজ্ঞানে অবদানের জন্য তিনি ব্রিটিশ সরকারের ‘নাইট’ উপাধিও পেয়েছিলেন।
•    ১৯৭৬ – ফরাসি লেখক অঁদ্রে মালরোর মৃত্যু।