ইউনিলিভার ও ভ্যাসলিনের হিলিং প্রজেক্ট

চ্যানেল ডেস্ক:  শীতের দুর্ভোগের কথা কে না জানে! হাত-পা থেকে শুরু করে ঠোঁট ফাটা, র‍্যাশ, কাটা-ছেঁড়া থেকে ত্বকে ইনফেকশন। সবচেয়ে দরিদ্র এলাকা হওয়ার কারণে ত্বকের এমন সব সমস্যায় চিকিৎসক দেখানো যেন অলীক কোনো স্বপ্ন।

এমনই একটি অবস্থায় বগুড়ায় শুরু হয়েছিল ইউনিলিভারের ভ্যাসলিন হিলিং প্রজেক্টের কার্যক্রম।

সাধারণ একটি জারের অসাধারণ সব গল্প বাস্তবে রূপ দিতে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড ও বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএসের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এই প্রকল্পের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত।

অবশ্য বাংলাদেশই একমাত্র নয়, ত্বকের সুরক্ষা সেখানে, যেখানে সবচেয়ে প্রয়োজন—এমন একটি শিরোনামে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছিল এই প্রকল্প। উদ্দেশ্য—২০২০ সালের মধ্যে দরিদ্র বা জরুরি অবস্থায় থাকা ৫ বিলিয়ন মানুষকে ত্বকের সুরক্ষায় সাহায্য করা। এই কাজে ব্র্যান্ড ভ্যাসলিনকে সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থা ডাইরেক্ট রিলিফ।

ইতিমধ্যে ৩৯টি দেশের ২ মিলিয়ন মানুষকে এই প্রজেক্টের আওতায় সেবা দেওয়া হয়েছে। জর্ডানে অবস্থিত সিরিয়ান রিফিউজি ক্যাম্পের উদ্বাস্তুদের ত্বকের সমস্যা সমাধানে ডার্মাটোলজিস্ট দেখানো, সাউথ আফ্রিকায় নার্সদের ফ্রি ট্রেনিং, এমনকি টাইফুন হাইয়ানের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া শত শত মানুষকে এই সেবা পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ভ্যাসলিন।

. বাংলাদেশে এই প্রকল্পের শুরু থেকেই সহযোগিতা করেছে টিএমএসএস। তারা উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত হাসপাতালটির মাধ্যমে রোগীদের কাছে ডার্মাটোলজিস্টের মাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছে ভ্যাসলিনের সুরক্ষা।

টিএমএসএসের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক রাগিব আহসান বলেন, ‘টিএমএসএস তাদের নিজস্ব চিকিৎসক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে নিজেদের আঙিনায় ৩০০ জন চিকিৎসক, ৬০০ জন নার্স ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মশালা পরিচালনা করেছে। ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মশালায় তাঁরা জেনেছেন ত্বকের সাধারণ সমস্যা ও তার সমাধান। ত্বকের সাধারণ সমস্যায় ভ্যাসলিন কাজ করে—এটা সবাই মোটামুটি জানতেন। এখন তাঁরা তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটিও জেনেছেন।’

টিএমএসএস আরও পৌঁছে দিয়েছে সচেতনতামূলক লিফলেট। কমিউনিটি হাসপাতাল থেকে বিতরণ করেছে ব্যবস্থাপত্র। দরিদ্রতম মানুষটির হাতে পৌঁছে দিয়েছে ভ্যাসলিনের ফ্রি স্যাম্পল।

প্রকল্পটির মুখপাত্র বিপাশা হায়াত বলেন, ‘একজন অভিনেত্রী হিসেবে এ দেশের মানুষের কাছে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমাকে সারাক্ষণ তাদের জন্য কিছু করার অণুপ্রেরণা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের অসাধারণ ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার পথ করে দিয়েছে ইউনিলিভার ও ভ্যাসলিনের এই হিলিং প্রজেক্ট। মানুষের জীবনে সুস্থতা মানেই সৌন্দর্য। সেই সৌন্দর্য বাড়াতে আমিও অংশগ্রহণ করতে পারছি—এটি আমার জন্য একটি বড় পাওয়া।’

মডার্ন ট্রেড পার্টনার হিসেবে ছিল ইউনিমার্ট। গুলশান-২-এর ইউনিমার্টে কিয়স্ক স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয় ভ্যাসলিন সংগ্রহ কার্যক্রম। যা সংগ্রহ করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বগুড়ার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের হাতে।