উদ্বোধনের অপেক্ষায় বঙ্গতাজ ডিগ্রি কলেজের চারতলা একাডেমিক ভবন

বঙ্গতাজ কলেজ

কাপাসিয়া থেকে মোহাম্মদ মনজুরুল হক গাজী : বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালে যখন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তখন তাঁর হাত দিয়ে মঞ্জুরী প্রাপ্তির পর বঙ্গতাজের জন্মভূমি গাজীপুরের কাপাসিয়ার খিরাটী গ্রামে বঙ্গতাজ কলেজের যাত্রা শুরু। বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের প্রতি জন্মভূমির মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মানের ফসল-‘বঙ্গতাজ কলেজ’ নামকরণ। বঙ্গতাজ কলেজ প্রতিষ্ঠার রয়েছে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ও বঙ্গতাজের স্মৃতি বিজড়িত ইতিহাস ও ঘটনা। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ কাজী এম. এ কাদের রচিত নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধে এসবের উল্লেখ রয়েছে ।

কলেজের ভবন নির্মাণ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান শিরিনা বানু, বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান বাবু বলাই কুমার দত্ত, গণিত বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. গোলাম গাফফার রূপসী গাজীপুরের এই প্রতিবেদককে জানান, কলেজ প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর থেকেই আমরা এখানে কর্মরত হয়েছি। কলেজে ছাত্র ছিল না, কাস করার মত কক্ষ ছিল না। এখন, কলেজ ভরা ছাত্র-ছাত্রী, উন্নত ভবন। এগুলো আমাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রচেষ্টার ফল। তিলে তিলে কলেজকে গড়ে তোলা। কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমাদের হারানোর, না পাওয়ার বা প্রাপ্তির কিছুই নেই। শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আজ এত সুন্দর ভবন এটিই আমাদের প্রশান্তি ও প্রাপ্তি।

ইংরেজী বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. মফিজ উদ্দিন অভিমতে বলেন, এই কলেজে বঙ্গতাজের পদচিহ্ন ও পদধুলি লেগে আছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ কলেজের জন্ম দিয়ে যেমন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, তেমনি তাঁর কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এমপি সভাপতি হবার পর কলেজের এ যাবৎ কালের উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কলেজে শিক্ষার গুনগত মান ও শিক্ষার উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি করে ইতিহাস রচনা করেছেন। কলেজ পূর্ণতা পেয়েছে। আমি আশাবাদী আগামীতে কলেজে অনার্স কোর্স চালুর ব্যবস্থা করে এবং বঙ্গতাজের নামে দেশের একমাত্র কলেজটি সরকারিকরণের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করে আরো ইতিহাস সৃষ্টি করবেন।

উল্লেখ্য ২০১৬ সালের শেষের দিকে রিমি এমপি কাপাসিয়ার হাইলজোরে অবস্থিত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ কলেজের দ্বিতল ভবনের উদ্বোধন পরবর্তী জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন সভার বরাত দিয়ে বলেছিলেন-“ কলেজের দ্বিতল ভবনগুলো চারতলা বিশিষ্ট হবে-এমপি রিমি।” এই শিরোনামে এই প্রতিবেদকের নিউজটি তখন সাপ্তাহিক রূপসী গাজীপুরসহ অন্যান্য জাতীয় অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছিল। প্রায় একই সময়ে বঙ্গতাজ কলেজেও দ্বিতল ভবনের কাজ শেষ হয়েছিল। যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে। পরবর্তীতে আবার ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাকী দু’তলার (৩য় ও ৪র্থ) কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল।

ভবন বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি এমপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে ব্যাপক ধারাবাহিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে যাচ্ছেন এই ভবন এরই অংশ। অভিমত ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শুধু ভবন সুন্দর ও উন্নত হলেই হবেনা আমাদের মানুষগুলোকেও সুন্দর ও উন্নত হতে হবে। আমার বিশ্বাস- কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা বঙ্গতাজ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের আদর্শ গ্রহণ করলে কলেজটি দেশের শ্রেষ্ঠ কলেজে পরিণত হবে।

নির্মাণ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, কিঞ্চিত পরিমাণ কাজ বাকী রয়েছে, এটি সম্পূর্ণ হলেই আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে ভবনটি বুঝিয়ে দিব।

কলেজ পরিচালনা পরিষদের অন্যতম সদস্য মো. ডি.এম মো. মতিউর রহমান মোল্লা ও মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের জন্য আমরা আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছি এবং আশা করছি এমপি মহোদয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অধ্যক্ষ মো. আওলাদ হোসেন খান অভিমতে বলেন, নির্মাণ কর্তৃপক্ষ ভবনটি বুঝিয়ে দিলে এমপি মহোদয়ের সাথে পরামর্শক্রমে সুবিধাজনক সময়ে ভবনটি উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। অধ্যক্ষ- ২০২২ সালে জাতীয় মানের একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কলেজের ৫০ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপনের অভিমত ব্যক্ত করেন এবং তিনি আশাবাদী এর মধ্যে বর্তমান সরকারের নীতি-নির্ধারকগণ কলেজটি সরকারিকরণের ব্যবস্থা করবেন।