উন্নয়ন কাজে জনদুর্ভোগ!

স্টাফ রিপোর্টার : জলাবদ্ধতা নিরসন এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির লাইন ও রাস্তার সংস্কারে গত এক বছর ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। তবে সময়মতো শেষ না করায় এসব উন্নয়ন কাজই এখন হয়ে উঠেছে রাজধানীবাসীর গলার ফাঁস।

অতিষ্ঠ হয়ে ওঠা দুই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি নিয়ে তাই অসন্তুষ্টির শেষ নেই।

শুক্রবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকায় চলা সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়ন কাজ জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

এসব এলাকার ছোট-বড় সকল রাস্তা ও অলি-গলিতে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। ফলে যাতায়াতে নিত্য ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। বৃষ্টির দিনে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার, বৃষ্টি না থাকলে ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে পুরো এলাকা।

পশ্চিম রাজাবাজার ও মিরপুরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সংস্থা ও সিটি করপোরেশন নিজেদের সুবিধা অনুসারে কাজ করে, মানুষের কথা মাথায় রেখে করে না। ছোট ছোট রাস্তা ও অলি-গলিতে দু’টি পাইপ ও পিচ ঢালাই করতে সিটি করপোরেশন সময় লাগাচ্ছে এক বছর। ফলে জনসাধারণের ভোগান্তির শেষ নেই।

মোহাম্মদ ইভান গত ২০ বছর ধরে পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘গত এক বছর এ এলাকায় যে পরিমাণে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছে, তা ২০ বছরেও দেখিনি’।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে ইভান বলেন, ‘এ এলাকার ৪টি রাস্তার কাজ এক বছরেও শেষ হয়নি। স্বীকার করি, উন্নয়ন হলে কিছু দুর্ভোগ হয়। তাই বলে ৪টি রাস্তার কাজ শেষ করতে এক বছর লাগবে?’মিরপুর-২ নম্বরের বাসিন্দা খোকন বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, ‘রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রোদ হলে পুরো এলাকা ধুলাময় আর বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা। এভাবে কি বাঁচা যায়?’

তবে সংস্কার কাজে জড়িত শ্রমিকরা বলছেন, সিটি করপোরেশন কাজের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারদের ঢিলেমিতে শেষ হতে দেরি হচ্ছে।

মিরপুরের মনিপুরের বড়বাগে কর্মরত শ্রমিক মো. ইউনুস বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, এ রাস্তার কাজ গত মাসেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারের কারণে দেরি হচ্ছে। ঠিকমতো জিনিসপত্র না এনে দিলে তো কাজ দেরিতেই শেষ হবে। এ জন্য সম্পূর্ণ দায়ী ঠিকাদাররা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসির) নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদুর রহমান বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীর যেন ভোগান্তি না হয়, সেজন্যই আমরা রাস্তা সংস্কারের কাজ করছি। খোঁড়াখুঁড়ির কাজ খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। তবে উন্নয়ন কাজ চলাকালে কিছু ভোগান্তি তো মেনে নিতেই হবে’।