উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে আমনে

স্টাফ রিপোর্টার : অন্যান্য বছর সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়লেও চলতি আমন মৌসুমে ধানের উৎপাদন ব্যয় গত বছরের চেয়ে ৫ টাকা ৬৩ পয়সা ও চালের ব্যয় ৮ টাকা ২ পয়সা বেড়েছে।

এবার প্রতি কেজি আমন ধানের উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ টাকা ৬৩ পয়সা। চালের উৎপাদন ব্যয় ৩৭ টাকা ০২ পয়সা। গত বছর ধানের উৎপাদন ব্যয় ছিল ১৯ টাকা ও চালের ২৯ টাকা।

আমনের এ উৎপাদন মূল্য নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমন ফসলের উৎপাদন ব্যয় প্রাক্কলন সংক্রান্ত এক সভায় এ খরচ নির্ধারণ করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নীতি, পরিকল্পনা ও সমন্বয়) মোহাম্মদ নজমুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সভায় সংশ্লিষ্ট সব দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উৎপাদন ব্যয়ের তথ্য জানিয়ে নজমুল ইসলাম বিজ্ঞাপটন চ্যানেলকে বলেন, ‘জৈব সার, শ্রমের মজুরি (পারিবারিক ও ভাড়াকৃত শ্রম), জমি কর্ষণ বাবদ খরচ, সেচ ও ধান থেকে চাল করার মিলিং খরচ (সিদ্ধ ও পরিবহনসহ) বিবেচনায় নিয়ে চলতি অর্থবছরের আমনের উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।’

গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই আমনের উৎপাদন ব্যয় এত বেশি বাড়ল। ২০১৫ সালে প্রতি কেজি আমন ধানের উৎপাদন ব্যয় ছিল ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। চালের উৎপাদন ব্যয় ছিল ২৮ টাকা ৫০ পয়সা। ২০১৪ সালে ধানের উৎপাদন ব্যয় ছিল ১৮ টাকা ও চালের ছিল ২৮ টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালে ধানের উৎপাদন খরচ ছিল ১৭ টাকা ০২ পয়সা ও চালের ছিল ২৫ টাকা ৪২ পয়সা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এবার বন্যার কারণে কোনো কোনো জেলার কৃষককে দু’বার আমন চারা রোপন করতে হয়েছে। এ ছাড়া ব্লাস্ট রোগের কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক।

দেশের বাজারে গত কয়েক মাসে চালের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। চালের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও সেভাবে কমেনি চালের দাম। এখন মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার উপরে। তবে বলা হচ্ছে আমন চাল বাজারে এলে দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

কিন্তু আমনের উৎপাদন মূল্য বেশি বেড়ে যাওয়ায় তা চালের দামে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, আগামী নভেম্বর মাসের শুরুতে আমন কাটা শুরু হবে। কৃষকরা যাতে ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় এ জন্য আগেই ধান ও চালের উৎপাদন মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর ৫৬ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে এক কোটি ৪০ লাখ ৭৬ হাজার টন আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ফসল উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খরচ গত বছরের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় এবার আমনের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সবেচেয়ে বেশি বেড়েছে শ্রমের মূল্য। গত বছর দৈনিক শ্রমিকের মজুরি ৩২০ টাকা থাকলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে ৩৬০ টাকা।

এ ছাড়া আমন আবাদে এবার বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।

বোরোর পর আমনই দেশের সবচেয়ে বড় ফসল। সরকার প্রতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে তিন লাখ টনের মতো আমন চাল সংগ্রহ করে থাকে। এ সংগ্রহ কার্যক্রম ডিসেম্বর মাসে শুরু হয়, শেষ হয় মার্চের মাঝামাঝি সময়ে। গত মৌসুমে প্রতি কেজি ৩৩ টাকা দরে তিন লাখ টন আমন চাল সংগ্রহ করে সরকার।