শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতা, বাঙ্গালী জাতির গর্ব

এক বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়ে অনন্য ও ঈর্ষণীয় অবস্থান তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিচক্ষণতা ও নেতৃত্বের দৃঢ়তা দিয়ে এক নতুন বাংলাদেশ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। তার হাত ধরে সফলতা এসেছে কূটনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের মতো সব ক্ষেত্রেই। বাংলাদেশের বন্ধন তৈরি করেছেন বিশ্বব্যাপী।

একদিকে ভারত, অন্যদিকে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বে স্থাপিত হয়েছে মাইলস্টোন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি পৌঁছে গেছে ৭ দশমিক ১১-তে। পরিকল্পনা করেছেন চট্টগ্রামকে দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর বানানোর। বাস্তবায়ন হচ্ছে ১০০ ইকোনমিক জোন। অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে নজরকাড়া সাফল্য হিসেবে দেখা দিচ্ছে পদ্মা সেতু। পাশাপাশি চার লেন মহাসড়ক, উড়ালসড়ক এখন আর স্বপ্ন নয়, রীতিমতো বাস্তবতা।

শেখ হাসিনার পরিকল্পনাতেই বাংলাদেশ এখন প্রায় সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল। পাওয়া যাচ্ছে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ। তার প্রযুক্তিবান্ধব কৃষিনীতির কারণেই বাংলাদেশ ইতোমধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পর রপ্তানির সক্ষমতাও অর্জন করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উন্নয়নের জন্য সবার আগে প্রয়োজন স্থিতিশীলতা। আর এখনকার মতো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাংলাদেশে নিকট অতীতে দেখা যায়নি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রায় পুরোটাই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিয়ন্ত্রণে। তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে সব রাজনৈতিক কর্মসূচি ও কর্মকাণ্ড। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি প্রায় একক সিদ্ধান্তে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করেছেন। ঘরে-বাইরে সমালোচিত এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হলেও শেখ হাসিনার ক্ষমতা ও সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেননি কেউ। বরং তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কাছে রীতিমতো পর্যুদস্ত হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় বন্ধ করতে পারেনি যুদ্ধাপরাধের বিচার।

পরাক্রমশালী যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের চাপ-কৌশলের বিপরীতে বিশ্বরাজনীতি দ্বিতীয় ধারার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততাও শেখ হাসিনার অনন্য রাজনৈতিক কৌশল। সব মিলিয়ে রাজনীতির মাঠে শেখ হাসিনা আছেন চালকের আসনে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, বিগত ২০০৯ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় শেখ হাসিনা সরকারকে নানান চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হলেও উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।

২০০৯-২০১৩ মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর মাঝে আছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৩ হাজার ২৬০ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ, গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন। ৫ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরণ। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে জলসীমা চুক্তির বিরোধের নিষ্পত্তি। প্রতি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন। মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ। কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড, ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা।

১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন। দারিদ্র্যের হার ২৪.৩ শতাংশে হ্রাস। এ ছাড়া তিনি নিজে জাতিসংঘ কর্তৃক শান্তির মডেল গ্রহণ করেন। ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে নিম্নমধ্য আয়ের দেশে উন্নীতকরণ। ভারতের পার্লামেন্ট কর্তৃক স্থলসীমা চুক্তির অনুমোদন এবং দুই দেশের মধ্যে ৬৮ বছরের সীমানা বিরোধের অবসান। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩১৪ ডলারে উন্নীতকরণ ও দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশে হ্রাস। ২৫ বিলিয়ন ডলারের ওপর বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ।

পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন শুরুর মতো নানা সাফল্য যুক্ত হয়েছে তার নেতৃত্বেই। পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, লিঙ্গসমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমানোর সূচকে শেখ হাসিনার সাফল্যে বিশ্ব রীতিমতো বিস্মিত। যার স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ সাউথ পুরস্কার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পেয়েছেন ইউএনএমডিজি পুরস্কারও।

জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ও পেয়েছেন তিনি। অবশ্য শুধু এসবই নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ২৭টি পুরস্কার ও পদক অর্জন করেছেন। শুধু পুরস্কারপ্রাপ্তিতেই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতার কথা এখন বিশ্বনেতারা জানতে চান বিভিন্ন ফোরামে। বহুপাক্ষিক সম্মেলনগুলোয় শেখ হাসিনা উপস্থিত হলেই অন্যান্য রাষ্ট্রনায়ক ও সরকারপ্রধানরা কাছে এসে অভিনন্দন জানান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এমন পরিচিতি বাংলাদেশের আর কোনো নেতা পাননি।