কাপাসিয়ায় আওয়ামীলীগ ও কৃষকলীগের সংঘর্ষ, গাড়ী ভাংচুর

কাপাসিয়ায় আওয়ামীলীগ ও কৃষকলীগের সংঘর্ষ

রেজাউল সরকার (আঁধার): গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আজ সন্ধ্যায় পুজা মন্ডপ পরিদর্শনকালে আওয়ামীলীগ ও কৃষকলীগের দুই গ্রুপের রাস্তা অতিক্রম করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ২০/২২ মোটর সাইকেল ভাংচুর ও ১৫/২০ জন আহত হয়েছে।পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার সময় আওয়ামীলীগ বহরে স্থানীয় সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, কৃষকলীগ বহরে বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা ও বঙ্গতাজ তাজউদ্দীনের ভাগিনা আলম আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

আলম আহমেদ জানান, আজ বুধবার বাংলাদেশ কৃষকলীগের উদ্যোগে বিভিন্ন পুজা মন্ডপ পরিদর্শণের কর্মসূচী ছিল। কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ মোতাহার হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে উপজেলার এগারো ইউনিয়নের কৃষকলীগের নেতা-কমীদের একটি বহর নিয়ে দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকার পূজা মন্ডপ পরিদর্শণ শেষে সনমানিয়ায় আমার নিজ বাড়ীতে ফিরছিলাম। কয়েক শত নেতাকর্মীর এ বহরটি সনমানিয়া ইউনিয়নের আড়াল বাজার এলাকায় পৌঁছলে উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা তাদের বাঁধা প্রদান করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এতে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন কৃষকলীগ সভাপতি শাকিল হাসান, ঘাগটিয়া ইউনিয়ন কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক মোল্লা, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন কৃষকলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম, রায়েদ ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আঃ মান্নান, কৃষকলীগ কর্মী আজহার হোসেন সহ ১৫/২০ জন আহত হয় এবং ২০/২২টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়।

পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে আড়াল বাজার মোড় ও মরিয়ম ভিলেজে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন মরিয়ম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলম আহমদ সহ কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দ।

কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউর রহমান লস্কর মিঠু জানান, আজ সন্ধ্যায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিশাল বহর নিয়ে পুজা মন্ডপ পরিদর্শনে বের হন। বিভিন্ন পূর্জা মন্ডপ পরিদর্শণ শেষে দক্ষিণগাঁও থেকে কড়িহাতা ইউনিয়নে আসার পথে আড়াল বাজার এলাকায় কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে কৃষকলীগের অপর একটি বহরের মুখোমুখি হয়। এসময় তারা রিমি আপার গাড়ী বহর থামিয়ে নিজেরা আগে যেতে চায়। এ নিয়ে উভয়পক্ষে বাকবিতন্ডা হয়। পরে নেতৃবৃন্ধের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে কোন সংঘর্ষ বা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি।

অপরদিকে এমপির বহরে থাকা কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান প্রধান বলেন, বুধবার সকাল ১১টার দিকে এমপি সিমিন হোসেন রিমি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর উত্তরে বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামন্ডপ পরিদর্শণে যান। পরে তিনি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আড়াল বাজারের পূঁজামন্ডপের দিকে গাড়ির বহর নিয়ে যাচ্ছিলেন। একই সময় কৃষকলীগের মোতাহার হোসেন মোল্লার লোকজন গাড়ির বহর নিয়ে আড়াল-চৌরাস্তা মোড় এলাকা অতিক্রম করছিলেন। পুলিশের সহযোগিতায় এমপির গাড়ি চলে যাওয়ার পরপরই রাস্তায় সাইড না দেয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাদানুবাদ ও সংঘর্ষ বাধে। তবে সংঘর্ষে তার পক্ষের কেউ আহত হওয়ার খবর তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
কাপাসিয়া থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, সাইড না দেয়াকে কেন্দ্র করে ঊভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে তাদের কয়েকজন আহত হন এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাংচুরের ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। তবে এমপি ও মোতাহার হোসেন মোল্লার গাড়ির কোন ক্ষতি হয়নি।