কাপাসিয়ায় আবারও মোটরসাইকেল চুরি, গ্রেফতার ১

কাপাসিয়া (গাজীপুর) থেকে অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সরকার দলীয এক নেতাকে গণধোলাইয়ের ৪৮ ঘন্টা অতিবাহিত হতে না হতেই এবার উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া ইউনুছ মার্কেট এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক মোটরসাইকেল চোরকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।

বিক্ষুব্ধ জনতা ওই চোরকে গণপিটুনি দেয়।

ফুলবাড়িয়া ইউনুছ মার্কেটের ব্যবসায়ী মামুন আলম খান বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, ১ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফুলবাড়িয়া গ্রামের তোফাজ্জলের পোল্ট্রি ফার্মের ম্যানেজার আব্দুল মোমেন ফার্মের সামনে একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল রেখে ফার্মের ভেতর প্রবেশ করে। এসময় প্রতিবেশী এক কিশোর তিন চোর মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে বলে চিৎকার করতে থাকে। কিশোরের  চিৎকারে মোমেন পোল্ট্রি ফার্ম থেকে দ্রুত বের হয়ে চোরদের পিছু ধাওয়া করে।

পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দুর্গাপুর মোড় থেকে শামীম(২৮) নামে এক মোটরসাইকেল চোরকে আটক করে। এসময় অপর দু’সহযোগী মোটরসাইকেল সহ পালিয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আটককৃত শামীমকে ইউনুছ মার্কেটে নিয়ে আসে। উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, দুর্গাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল গাফ্ফার, সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুছ আলী মোল্লা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শামীমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এর আগে মোটরসাইকেল চোর শামীমকে উদ্ধার করতে সিএনজিযোগে থানার এসআই নিতাই চন্দ্র দাস সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় এলাকাবাসী মোটরসাইকেল ফিরে দেয়ার জন্য ওই চোরকে চাপ সৃষ্টি করে। গ্রামবাসীর দাবি অন্যথায় ধৃত চোরকে থানায় নিয়ে যেতে দেবে না। পুলিশ ধৃত চোরকে জোরপূর্বক নিয়ে যাবার চেষ্টাকালে গ্রামবাসীর সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে হাতাহাতি হয় এবং তাদেরকে প্রায় ২ ঘণ্টা আটকে রাখে। এতে ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হলো, কাপাসিয়া থানার এসআই নিতাই চন্দ্র দাস, কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান ও সুভ্রত মন্ডল।

পরিস্থিতি শান্ত করতে থানার ওসি বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় এবং দ্রুতই চোরদের আইনের আওতায় আনা হবে আশ্বাস দিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের তিন সদস্য উদ্ধার করে  এবং স্থানীয়  পোল্ট্রি মালিক  তোফাজ্জল, ফার্মের ম্যানেজার আব্দুল মোমেন ও তার ভাই মামুনকে থানায় নিয়ে আসে ওসি।

ওসি জানায়, আটককৃত শামীম নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার পেয়ারাপুর গ্রামের শাহ আলম ভূইয়ার ছেলে। তার মাতার নাম জহুরা বেগম।তার অপর দু’সহযোগী শ্রীপুরের মাওনা এলাকার বাসিন্দা বলে শামীম জানায়।

শামীম ও তার সহযোগীরা সকাল থেকে দুর্গাপুর-ফুলবাড়িয়া এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল বলে এলাকাবাসী জানায়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ফুলবাড়িয়া ইউনুছ মার্কেটের পূর্ব পাশের দেইলগাঁও গ্রাম থেকে এক মোটরসাইকেল চুরি হয়। এলাকাবাসীর ধারণা, ওই চুরির সাথে তাদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।