কাপাসিয়ায় খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার : গরু বিক্রির টাকাই কাল হলো রশিদের

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় রায়েদ ইউনিয়নের ভূলেশ্বর এলাকার গাজারি বন থেকে মানব কঙ্কালের মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধারের ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত মো: রশিদের স্ত্রী সামসুন্নাহার বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা ব্যাক্তিদের নামে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পর থেকে নিহত রশিদের শ্যালক রাজিব পলাতক রয়েছে। হঠাৎ করে সে গা ঢাকা দেয়া নিয়ে এলাকাবাসী মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গরু বিক্রির টাকার লোভে আ: রশিদকে হত্যা করা হয় বলে নিহতের স্ত্রী দাবী করেন। নিহতের স্ত্রী গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করে মামলাটি থানা থেকে ডি বি গাজীপুরকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি ডিবি তদন্ত করছেন।

নিহতের স্ত্রী সামসুন্নাহার জানান, তার স্বামী গরু ব্যবসায়ি ছিলেন। গত বছর ঈদুল আজহার আগে মোঃ রশিদ (৪০) ও তার সহযোগী একই এলাকার চান মিয়া ও আতাউর রহমান আতা গরু নিয়ে উপজেলার গিয়াসপুর হাটে যায়। ওইরাত থেকে সে নিখোঁজ হয়। ওই সময় তার সাথে গরু বিক্রির প্রায় ১৫ লাখ টাকা ছিল বলে স্ত্রী দাবী করেন। নিখোঁজের পরের দিন সকালে চান মিয়াও টাকা দাতা মোকলেছুর রহমানকে নিয়ে মো: রশিদের বাড়ীতে যান রশিদকে খোঁজার জন্য। সেখানে গিয়ে জানতে পারে রশিদ গতরাতে রাড়ী ফিরেনি। নিখোঁজ হওয়ার পরে তার স্ত্রী কাপাসিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এর পর ৪ মাস কেটে গেল রশিদ আর বাড়ীতে ফিরে আসেনি। গত ২ জানুয়ারী ভুলেশ্বর এক গজারী বনে নিখোঁজ হওয়া আ: রশিদের কঙ্কাল ও জামা কাপড় দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ কঙ্কাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

রায়েদ গ্রামের মো: নজরুল ইসলাম জানান, যেখান থেকে কঙ্কাল উদ্ধার হয় সে জায়গাটা মো: রশিদ এর বাড়ী থেকে মাত্র কয়েক শত গজ দুরে। তাছাড়া এলাকায় অনেক বাড়ী ঘর আছে। একটি লাশ পছন ধরলে এলাকা জুড়ে এর গন্ধ ছড়ায়। কিন্তু এ লাশটি পচন হলেও লাশের কোন গন্ধ পায়নি কেউ। আর লাশের সাথে যে কাপড়গুলো পাওয়া যায় তাও ছিল ভাজ করা অবস্থায়। আর কঙ্কাল দেখে রশিদের পরিবারে লোকজন থানায় খবর দেয় বলে একাধিক ব্যক্তি থেকে জানা যায়।

সুত্র জানান, কঙ্কাল পাওয়ার ১৫ দিন আগে নিহতের শ্যালক রাজিব মিয়া স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে থেকে মো: রশিদের মৃত্যু সনদ পত্র আনার জন্য অফিসে গিয়ে ব্যর্থ হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রায়েদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ: হাই । তিনি আরো বলেন, আমার সন্দেহ হওয়ার কারনে আমি নিহত রশিদের শ্যালক রাজিবকে জিজ্ঞাস করেছিলাম কি কারনে তুমি মৃত্যুর সনদ নিবে। সে কোনো উত্তর দিতে পারেনি। এতে বুঝা যায়, রশিদের মৃত্যুর বিষয়ে রাজিব কিছু বলতে পাববে।

এলাকার অনেকে ধারণা, পরিবারের আত্বীয়স্বজনরাই খুনের সাথে জড়িত থাকতে পারে। একাধিক সুত্রে জানা যায়, নিহত রশিদ নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার থেকে কোথায় খোঁজাখুঁজি করেনি বা কারো সাথে কোন বিষয়ে যোগাযোগ পযর্ন্তও করেনি। এমনকি রশিদ নিখোঁজ হওয়ার পর রশিদের শ্যালক রাজিব বিদেশ চলে যাওয়ার জন্য আদমের কাছে টাকা জমা দিয়েছে বলে সুত্র জানায়।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন হঠাৎ রাজিব বিদেশ চলে যাওয়ার জন্য তৎপর শুরু করল কেন, টাকাই বা পেল কোখায় এ প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে এলাকা জুড়ে।

কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক জানান, মামলাটি গাজীপুরে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত টিম তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে। তবে তিনি বলেন, কঙ্কালটি যে মো: রশিদের তা এখনও স্পস্ট নয়। ডিএনএ টেস্ট করলে জানা যাবে।

উল্লেখ্য, ২ জানুয়ারী কাপাসিয়া উপজেলার ভূলেশ্বর এলাকার গজারি বনে মানুষের মাথার খুলি ও হাড় দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ বন থেকে মাথার খুলি, বুকের ও পায়েরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় এবং এর পাশে গাছে ঝুলানো অবস্থায় একটি টর্চলাইট, একটি লুঙ্গি ও একটি গেঞ্জি উদ্ধার করেন।