কাপাসিয়ায় জঙ্গল থেকে অটোচালকের মাথা উদ্ধার, খুনি কারাগারে

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া ডাকঘরের নৈশপ্রহরীর ছেলে অটোচালক মাফিজুর রহমানকে (১৮) গলা কেটে হত্যার ৭দিন পর তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার ও এক হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার তরুণ পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে আবুল কাশেমের ছেলে রাকিব মিয়াকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সোয়া ১টার দিকে পাশ্ববর্তী হরদার টেক জঙ্গলের মাটির নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয় বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মনিরুজ্জামান খান।

তিনি জানান, কিলারদের কাছে অটো তুলে দিলে রাকিব ১৫ হাজার টাকা পাবে এমন চুক্তিতে গত ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা রাতে রাকিব মিয়াসহ ৪ জন লেপ তোষক নিবে বলে নিহতের অটো রিকশা ভাড়া করেন। পরে রাকিবের বাড়ি থেকে কিছু দূরে রাস্তায় অটো ও তিন যাত্রীকে রেখে মালামাল রাকিবের বাড়িতে নামিয়ে দেন মাফিজুর। সেখান থেকে তিনি অটোর কাছে ফিরে দেখেন যাত্রীরা নেই। পরে ভাড়ার টাকার জন্য তাদের খুঁজতে খুঁজতে খালেকের টেক জঙ্গলে গিয়ে পায় মাফিজুর। এসময় পিছন পিছন রাকিবও যায়। ওখানে মাফিজুরকে চারজন মিলে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার পর বিচ্ছিন্ন মাথা পাশ্ববর্তী হরদার টেক জঙ্গলে নিয়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।

Image may contain: 6 people, people standing

মনিরুজ্জামান খান বলেন, হত্যার পর ব্যবহৃত ছুরি একজন নিয়ে গেছে। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার, খুনের আলামত জব্দ, ছিনতাই হওয়া অটো ও মোবাইল সেট উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর কাপাসিয়া ডাকঘরের নৈশপ্রহরী ও সাফাইশ্রী এলাকার ভাড়াটিয়া আইয়ুবুর রহমানের ছেলে মাফিজুর রহমানের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মাফিজুরের গ্রামের বাড়ি সিলেট সদরে। তিনি কাপাসিয়াতেই বড় হয়েছেন। এঘটনায় চারজনকে আসামি করে উদ্ধারের দিনই ছিনতাই ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামিদের মধ্যে একজন ডাকাতদলের সদস্য। তার বিরুদ্ধে কাপাসিয়া থানায় দুইটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। বাকি আসামিদের পরিচয় তদন্তের স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে।

বুধবার গ্রেপ্তারকৃত রাকিব মিয়াকে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। রিমান্ডের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে কাপাসিয়া থানা পুলিশ জানায়।