কাপাসিয়ায় দারোগার পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার ১

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার দারোগার চুরি হওয়া পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার নবীপুর এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে সজীব (২৬) নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্গজ দত্ত।

কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক জানান, গ্রেফতারকৃত সজীব নরসিংদীর মনোহরদীর হাতিরদিয়া এলাকার রেনু মিয়ার ছেলে। সজীবের কাছ থেকে চুরি যাওয়া পিস্তল, গুলি, দুইটি ম্যাগজিন ও একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে ।

তিনি  বলেন, সজীব কাপাসিয়ার লতাপাতা বাজার এলাকায় নানীর বাড়িতে থাকতো। সেখানে থেকে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ায় গিয়ে খুন করে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সে গাড়ি ডাকাতির সাথেও জড়িত। তার বিরুদ্ধে সাভার থানায় ১০/১২টি, কাপাসিয়া থানায় ১টি ও নরসিংদীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত ৯ এপ্রিল রাতে কাপাসিয়া থানার এসআই সুমন আহমদ শ্রাবনের ভাড়া বাসা থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়। পরে এ ঘটনা তদন্তে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) রাশেল শেখকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ওই এসআইকে বরখাস্ত করা হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কাপাসিয়া থানার ২০০ গজের মধ্যে এসআই সুমন ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন এবং ওসি আবু বকর সিদ্দিকের ভাড়া বাড়িটি কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থিত।
এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চুরি-ডাকাতির ঘটনায় দুশ্চিন্তার পাশাপশি পুলিশের ঢিলেঢালা নজরদারি ও গ্রামাঞ্চলে পুলিশের অপর্যাপ্ত টহল ডিউটিকে দায়ী করছেন কাপাসিয়ার সচেতন মহল।
ঘটনার পর গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আইন অনুসারে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) তার নিজ নামে বরাদ্দকৃত অস্ত্র বাড়িতে রাখার সুযোগ নেই। এর পরও কেন তিনি অস্ত্র রাখলেন এবং চুরি হওয়ার ঘটনাটি কেন বিলম্বে জানালেন এই বিষয়েও তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো গাফিলতি আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করব।