কাপাসিয়ায় ফের ভূমি ধস : রাস্তা সহ ১০ ফুট দেবে গেছে

কাপাসিয়া

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ভূমি ধসে রাস্তা সহ কমপক্ষে ১০ ফুট গভীরে দেবে গেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার ভোর ৫টার দিকে আকস্মিকভাবে কাপাসিয়া-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের দস্যু নারায়ণপুর বাজারের পূর্বপাশে শীতলক্ষ্যা নদীর দক্ষিণ তীরে এঘটনা ঘটে।

ভূমি ধসের কারণে আশপাশের লোকজন বাড়ি-ঘর ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।এছাড়া কাপাসিয়া ও শ্রীপুরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ভোর পাঁচটার দিকে গাছপালার মড় মড় ও শোঁ শোঁ শব্দে তারা জেগে উঠেন। পরে বাড়ির বাইরে বের হয়ে ভূমি ধসের ঘটনা দেখতে পান। ধস ক্রমশ বাড়ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছে।

অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সাধন দাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ নিয়ে এখানে তিনবার ভূমি ধসের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৬২ সনের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার ভূমিধস হয়। এরপর ২০১৫ সালের ২৮ নভেম্বর রাতে প্রায় তিন শ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ থেকে ২০ ফুট চওড়া অংশ ধসে যায়।এর আগে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একই স্থানে অনুরূপ ভূমি দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ সড়কটি মাটি ভরাট করে মেরামত করে এবং স্থানীয়রা মাটি ফেলে জমি কিছুটা উঁচু করেছিল।সর্বশেষ সোমবার ভোরে একই রকমভাবে ভূমি ধসের ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, এবার সড়কের কমপক্ষে চারশ’ ফুট অংশের ১০ ফুট দেবে গেছে। আশপাশের কমপক্ষে ১৫টি বাড়ি দেবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পর পর তিনবার ভূমি ধসের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে আবাসিক এলাকার দিকে ঢুকে পড়েছে।২০০৫ সনে ভূমি ধসের পর জাইকার প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘরবাড়ি ও সড়ক রক্ষায় শক্তিশালী বাঁধ দেওয়ার পরার্মশ দিয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।

স্থানীয় এক ব্যাবসায়ী বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘তার এক একর জমি নদীতে দেবে গেছে।’ অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে পর পর কয়েকবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবী করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সোমবারের ভূমি ধসে সড়ক ও সড়কের পাশের কলাবাগানসহ জমি সমতল থেকে প্রায় ১০ ফুট গভীরে দেবে গেছে। ১৬ ফুট প্রস্থের সড়কসহ দেবে যাওয়া জমির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ৩০০ ফুট। দেবে যাওয়া অংশে পাকা সড়ক, কলা বাগান, অন্যান্য ফলবাগান ও নদীর তীরের বৃক্ষ রয়েছে। এছাড়া এর দক্ষিণ পাশে কয়েকটি বসতবাড়িও রয়েছে।

কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাকছুদুল ইসলাম জানান, সড়কের ৫০ ফুটের মতো এলাকা দেবে গেছে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কাপাসিয়া-শ্রীপুর সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে।

স্থানীয় সাংসদ সিমিন হোসেন রিমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সড়কের এ অংশে পাইলিংসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে উন্নয়নকাজ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

সড়ক চলাচল স্বাভাবিক করতে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাজ শুরু করেছে।