কাপাসিয়ায় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শত শত হেক্টর জমির ধানের আবাদ বিনষ্ট

আসাদুল্লাহ মাসুম : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অজানা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শত শত হেক্টর জমির ধানের আবাদ নষ্ট হয়ে গেছে। রোগাক্রান্ত জমিতে ওষুধ ব্যবহার করে কোনো সুফল পাচ্ছেন না কৃষকেরা।

বিভিন্ন গ্রামের মাঠে এবার বোরো ধানে ব্যাপক আকারে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ফলে এবার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। হঠাৎ থোড়মুখি ধানক্ষেতে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়া ধান গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে ও শীষ বের হলেও ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। জমির ধান নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

কাপাসিয়া উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছিলো ১৩ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমি। কিন্তু ধানচাষ হয়েছে ১৩ হাজার ৬২৩ হেক্টর জমিতে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭০ হেক্টর জমিতে বেশি হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ২১ মেট্টিক টন। আক্রান্ত জমিতে ধানের (শীষ) শুকিয়ে যাচ্ছে ধান গাছ হলুদ বর্ণ হয়ে যাচ্ছে দুর থেকে দেখে মনে হচ্ছে ধান পেকে গেছে ধান সব চিটা হয়ে যাচ্ছে।

টোক ইউনিয়নের চাষি বাবুল মিয়া, ছাটারব গ্রামের খোকন মিয়া সহ অনেকেই বললেন, বোরো মৌসুমে ধানচাষ করি বছরের খাদ্য মজুদ করা এবং বিক্রি করে ঋণশোধ দেয়ার জন্য। আমাদের সব শেষ ধানের জমিতে গিয়ে দেখি শীষের নিচের অংশে কালো হয়ে পচে গেছে আর ওপরের শীষ শুকিয়ে গেছে স¤পূর্ণ শীষ চিটে হয়ে গেছে। ধান না হলে আমরা মাঠে মারা যাবো। চাষাবাদ করতে যে ঋণ হয়েছে তা পরিশোধ করাও কষ্টসাধ্য হবে।

কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সঞ্জয় কুমার পাল জানান, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাতে ঠান্ডা ও দিনে গরম আবহাওয়া ছিলো। ওই সময় তাপমাত্রার পার্থক্য ছিলো বেশ। আবহাওয়ার এই তারতম্যের কারণে ওই সময়ে বের হওয়া ধানের শীষ ব্লাস্টরোগে আক্রান্ত হয়েছে। যারা পরামর্শমতো খেতে ওষুধ ব্যবহার করেছেন তাদের সমস্যা হয়নি। নতুন করে আক্রান্ত না হলে ফলন বিপর্যয় হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। চাষিদের নাটিবু, ট্রোপার, সিকিউর, এমিস্টারটব ওষুধ আক্রান্ত জমিতে স্প্রে করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। একই সাথে জমির পানি শুকিয়ে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।