কাপাসিয়ায় মনোহরদী থানা পুলিশের তান্ডব

মনোহরদী থানা

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব পিঙ্গুলি গ্রামের তাইজ উদ্দিন নামে এক কৃষকের বাড়িতে গভীর রাতে দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে পাশ্ববর্তী মনোহরদী থানা পুলিশ। এ সময় তারা ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে। ঘটনাটি ঘটে ৩১ মার্চ শনিবার দিবাগত রাতে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দাবীকৃত ঘুষ না দেওয়ায় একই রাত ২ টার দিকে ওই কৃষকের স্ত্রী ও চৌকারচালা দাখিল মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী মেয়েকে বেধে মনোহরদী থানায় নিয়ে আসে এবং মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে তাদের স্বাক্ষর নেয় থানার উপ-পরিদর্শক(এস আই) মোঃ সোহরাব হোসেন।

পরের দিন রবিবার সকালে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মা ও মেয়েকে মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে । এই জবানবন্দি কৌশলে রেকর্ড করে এস আই সোহরাব। দুপুরের দিকে তাদের আত্মীয় স্বজনদের মোবাইলে ফোন দিতে থাকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসতে। পরে একটু কমিয়ে ৪০ হাজার নিয়ে আসতে বলে।

তাদের আত্মীয় স্বজনরা পুলিশকে কোনো টাকা দেবে না সাফ জানিয়ে দেয়।

এতে ক্ষুব্ধ হয় এস আই সোহরাব।

এস আই সোহরাব বিকেলে তাদেরকে সাগরদি আলিম মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামী দেখিয়ে নরসিংদী কোর্টে পাঠায়।

বিষয়টি গড়ায় ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট পর্যন্ত।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোঃ সাইফুল ইসলাম মোল্লা গতকাল ৯ এপ্রিল সোমবার নরসিংদী জেলা জজ ও দায়রা জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে আদালতকে প্রকৃত বিষয় অবগত করলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করে।

এ ব্যাপারে মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফখরুদ্দীন ভূহ্ঞার ভাষ্য, সাগরদি আলিম মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীর মা নরেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা তার মেয়েকে অপহরণপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে বলে থানায় এজাহার দায়ের করে।এতে একজন আসামীর নাম উল্লেখ রয়েছে। বাকী ৩/৪ জন অজ্ঞাত।

এস আই সোহরাব বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, সাগরদি আলিম মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ মামলার সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে মা-মেয়েকে আটক করি।

কিন্তু কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গভীর রাতে কাপাসিয়া থানা এলাকায় অনুপ্রবেশ, বেআইনীভাবে ভাংচুর, সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও জোর করে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় ও রেকর্ড করা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মোবাইল রেখে দেন।