কাপাসিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রী বিয়েতে রাজি না হওয়ায় অশ্লীল ভিডিও প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক মাদ্রসা ছাত্রী বিয়ের প্রস্তাবে সম্মতি না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে অশ্লীল ভিডিও প্রকাশ করেছে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী। প্রবাসীর নাম মাছুম (৩০)। সে উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের আবু সাহিদ মাস্টারের ছোট ছেলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ছাত্রী গত ১৪ আগস্ট সকালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট এর কাপাসিয়া কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জানান, তিনি কাপাসিয়া উপজেলার একটি কেন্দ্রিয় মাদ্রসায় ফাজেল শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। ফেসবুকের মাধ্যমে মাছুমের সাথে পরিচয় হয় দুই বছর আগে। দীর্ঘ দিন চ্যাট করার পর তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়ে উঠে। এ সুবাদে বিদেশ থেকে সে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা চালাচালি হয়। কিন্তু তার পরিবার খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, মাছুম আগে বিয়ে করেছিল এবং সমাজে সে একজন ‘লম্পট’ হিসেবে পরিচিত। তাই বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়। এতে সে সংক্ষুব্ধ হয়ে ভিডিওতে ছাত্রীর ছবির অপব্যবহার করে কুরুচিপূর্ণ, নোংরা ও আপত্তিকর ভিডিও তৈরী করে তা ফেসবুক ও ইউটিউবে ছেড়ে দেয়। এ বিষয়ে ভিকটিম মামলা করতে গেলে তাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয় মাছুম।

মাছুমের পিতা আবু সাহিদ মাস্টার বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, তার ছোট ছেলে মাছুম ২০০৬ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় একজন শ্রমিক হিসেবে কর্মরত আছে। বছর দুয়েক পর পর বাংলাদেশে আসে। নিয়মিত টাকা-পয়সা পাঠায়। সে আগে একটি বিয়ে করেছিল। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয় মাছুম। তিনি আরও বলেন, মাছুম ফেসবুকে ও ইউটিউবে অশ্লীল ভিডিও প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে মর্মে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট এর কর্মকর্তা সালমা কাউসার আমাকে ফোনে জানান। তারপর বিষয়টি নিয়ে আমি মাছুমের সাথে কথা বলি। মাছুম আমাকে জানায়, ওই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গাফ্ফার বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, বিয়েতে সায় না দেওয়ায় মাছুম ওই ছাত্রীকে ব্ল্যাক মেইল করছিল । বিষয়টি নিয়ে মাছুমের পরিবারের সঙ্গে আমার কথা হয় । তারা জানায়, ভবিষ্যতে এরূপ আর হবে না। কৃতকর্মের জন্য তারা অনুতপ্ত।

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট এর কর্মকর্তা সালমা কাউসার জানান, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি । তদন্তে অপরাধ প্রমানিত হলে এবং ভিকটিমের পরিবারের ইচ্ছা থাকলে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা করবে বলে জানান তিনি।