কাপাসিয়ায় মোবাইল ব্যবসায়ী আটক, ডিস লাইনের অফিস ঘেরাও

কাপাসিয়া

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের কাপাসিয়া বাজারের এক মোবাইল ব্যবসায়ীকে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে আটক করেছে স্থানীয় থানার এসআই মনিরুজ্জামান। ইফতার করতে না দিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে টেনে হ্যাচড়ে কাপাসিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার(১৭ জুন) সন্ধ্যায়।

আটক ব্যবসায়ীর নাম শহীদুল্লাহ(৩০)। তিনি উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের আহমদ আলী মোল্লার ছেলে। কাপাসিয়া বাজারে তার আমারদেশ টেলিকম নামে একটি দোকান রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী আলমগীর হাসান(২৪) বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, “১৭ জুন শনিবার বাদ আসর ডিস লাইনের সংযোগ নিয়ে আমারদেশ টেলিকমের মালিক শহীদুল্লাহ’র সঙ্গে স্থানীয় ডিস লাইন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বর্ণালী ক্যাবল নেটওয়ার্কের কর্মচারী জজ মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জজ মিয়া বর্ণালী ক্যাবল নেটওয়ার্কের মালিক চন্দন রক্ষিতকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে না এসেই তাৎক্ষণিকভাবে কাপাসিয়া থানায় যোগাযোগ করেন। পরে ইফতারের সময় কোনো লিখিত অভিযোগ ও পরোয়ানা ছাড়াই থানার এসআই মনিরুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্স সহ শহীদুল্লাহ’র দোকানে এসে তাকে আটক করে টানা হ্যাচড়া করে থানায় নিয়ে যান। এসময় চন্দনের ইন্ধনে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে মারধরও করেন “

“খবর পেয়ে ইফতারের পর বাজারের ব্যবসায়ীরা মিছিল নিয়ে ব্যবসায়ী চন্দনের বর্ণালী ক্যাবল নেটওয়ার্ক ঘেরাও করে এবং ব্যবসায়ীকে অযথা হয়রানির বিচার চেয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। তাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে আটক ব্যবসায়ীকে থানা থেকে ছুটিয়েে এনে ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করতে চন্দন বাধ্য হয় । পরে কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও কাপাসিয়া বাজার সমিতির নেতৃবৃন্দ সঠিক বিচারের আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা ফিরে যায়।” বলছিলেন কাপাসিয়া বাজারের মা ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী মোঃ মিজানুর রহমান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির এক কর্মকর্তা বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, “বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোনো ঝামেলা হলে তা বাজার সমিতিকে জানানোর নিয়ম রয়েছে। প্রশাসনের আগে আমাদের বাজার সমিতি ছিল, সেখানে চন্দন বাবু বা জজ মিয়া সমাধান চাইতে পারতেন।”

এ ব্যাপারে চন্দন রক্ষিত বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, “আমি শহীদুল্লাহ’র কাছে ১৪ মাসের ডিস বিল পাব। আমার কর্মচারি জজ মিয়াকে বকেয়া বিল আনতে শহীদুল্লাহ’র কাছে পাঠালে সে বলে বিল দিব না, কী করবি কর গিয়ে। তখন জজ মিয়f আমাকে বিষয়টি জানালে আমি লাইন  কেটে দিতে বলি।লাইন কেটে দেওয়ার পর শহীদুল্লাহ জজ মিয়াকে ডেকে নিয়ে মারধর করে। পরে জজ মিয়া থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়।আমাকে থানা থেকে ফোন দিলে আমি এবং বাজার কমিটির সেক্রেটারি বেলায়েত থানায় গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসি।”

তিনি আরও বলেন, “সন্ধ্যার পর কয়েক জন লোক আমার বিরুদ্ধে অযথা মিছিল করে এবং ডিসের তার কেটে দেয়।এটা তাদের পরিকল্পিত একটি ঘটনা। মিছিলে শহীদুল্লাহ ছিল না । আসাদ, ফরিদ, রাকিব আরও কয়েক জন মিলে আমাকে হেনস্থা করার জন্য এ কাজ করেছে।”

কাপাসিয়া থানার এসআই মনিরুজ্জামান বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, “জজ মিয়া আমার কাছে অভিযোগ দেয়। শহীদুল্লাহ ডিস বিল না দেওয়ায় তার ডিস লাইন কেটে দেয়া হলে সে তাকে ডেকে মারধর করে । তাই ঘটনাটা জানার জন্য শহীদুল্লাহকে থানায় নিয়ে আসি। কিন্তু তাকে টানা হ্যাচড়া করে নিয়ে আসিনি। চন্দন বাবু এসে বললে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।” কিন্তু শহীদুল্লাহকে মারধরের বিষয়টি এড়িয়ে যান এসআই মনিরুজ্জামান।

জানতে চাইলে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা “ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট” এর কাপাসিয়া উপজেলা কার্যালয়ের অফিসার-ইন-চার্জ রেজাউল করিম খান বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, “বিনা ওয়ারেন্টে অ-আমলযোগ্য ঘটনায় একজন নিরীহ ব্যবসায়ীকে অমানবিকভাবে থানায় নিয়ে মারপিট করার কোনো অধিকার কোনো পুলিশেরই নেই। সুতরাং, পারফরমেন্স করার ক্ষেত্রে পুলিশকে আরও সচেতন হতে হবে।”