কাপাসিয়ায় রাসেল ব্রিকসকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

ইট ভাটা

স্টাফ রিপোর্টার: পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে পরিবেশ বিপর্যয় এবং ব্যবসা পরিচালনায় নানান অসংগতির বিষয়ে জনগনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নে অবস্থিত রাসেল ব্রিকসকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গত ৯ এপ্রিল কাপাসিয়া উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এই জরিমানা ধার্য্য করেন। জরিমানা ধার্র্য্যরে সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাকছুদুল ইসলাম বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, জনসাধারনের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। তিনি আরও জানান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় মেসার্স রাসেল ব্রিকস (ইটভাটা) প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ রাসেল- ইট পুড়ানোর লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র, ভূমি লিস নেওয়ার বৈধ কাগজ-পত্র, ব্যবসার নবায়ন পত্র কোন কিছুই দেখাতে পারেনি। ইট পুড়ানোর ধূঁয়া নিঃসরনের চিমনি ৮০ ফিট উঁচু থাকার নিয়ম অথচ এই ইট ভাটার চিমনির উচ্চতা ৬৫ ফিট। এক কথায় তার নিকট কোনো সিঙ্গেল ডকুমেন্ট ছিল না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাপাসিয়ার রায়েদ বাজারের সন্নিকটে রাসেল ব্রিকস সহ আরো দুটি ইটের ভাটা যে গুলোর চিমনির উচ্চতা এত ছোট আকৃতির যে তা চোখে পড়ার মতো। তিনটি ইটের ভাটাই ফলের বাগান এবং কৃষি জমি ও আবাদি জমির পাশে গড়ে ওঠেছে।

উল্লেখ্য, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন, ২০১৩ (২০১৩ এর ৫৯ নং আইন) এর ধারা-৮ এর উপধারা (১) অনুযায়ী পৌরসভা বা উপজেলা সদর, জনবসতিপূর্ণ এলাকাতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফলের বাগান অধ্যুষিত, আবাসিক, জলাভূমি, কৃষি জমি, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের কোন নিয়ম নেই।

এছাড়াও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত উপজেলা বা ইউনিয়ন বা গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার কোন ব্যক্তি ভারি যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাঁচামাল পরিবহন করার কোন সুযোগ নেই।

ঐ এলাকার নিবাসী জাতীয় ছাত্র সমাজের গাজীপুর জেলা সভাপতি ও মানবাধিকার কর্মী মো. সাইদুর রহমান বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, একই অভিযোগে কয়েক মাস আগেও রায়েদ বাজারের নিকট গড়ে ওঠা ৩টি ইট ভাটাকে ৫০ হাজার করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

তিনি আরো জানান, বঙ্গতাজ পুত্র তানজিম আহমদ সোহেল তাজ যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন পুরো কাপাসিয়াতেই পরিবেশ দূষিত হবে এমন শিল্প বিকাশের জন্য তিনি কোন অনুমোদন দেননি। উনার পর থেকেই এসবের বিকাশ শুরু। কাপাসিয়াতে যা কিছু উন্নয়ন, শিল্পোন্নতি সবকিছু যেন পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভারসাম্যপূর্ণভাবে হয়। রায়েদ বাজারের নিকট ৩টি ইট ভাটা স্থাপনে কিছু লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলেও ইট ভাটা ৩টি শীতলক্ষ্যা নদীর পলি বিধৌত উর্বর কৃষি আবাদি জমির উপর গড়ে ওঠেছে। এখানে যে সুন্দর পরিবেশ ছিল, এখন আর তা নেই। সবই পরিবেশের বড় বিপর্যয়।

ইট ভাটার মালিক মো. রাসেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মোবাইল কোর্ট ও জরিমানার বিষয়টি সত্য। ব্যবসার নবায়নপত্র সহ অন্যান্য কাগজ-পত্রের ঘাটতি ছিল। এ বিষয়ে আমি আর কোন কথা বলতে চাচ্ছিনা। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে খুব শীঘ্রই ব্যবসার নবায়ন পত্র সহ অন্যান্য কাগজ-পত্র সংগ্রহের মাধ্যমে বৈধভাবে ব্যবসা করার ইচ্ছা ও পরিকল্পনা রয়েছে।