কাপাসিয়ায় সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করেছে মৌলভীর স্ত্রী

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক মৌলভীর স্ত্রী তার ৩ মাস বয়সী সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করার খবর পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার(২৮ মার্চ) ভোরে উপজেলার তরগাঁও ইউনিয়নের দিগধা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘাতককে আটক করেছে পুলিশ। তার নাম শাহীনুর বেগম (২৮)। তিনি ওই গ্রামের মাওলানা্ শরীফুল ইসলামের স্ত্রী। শরীফকেও আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানান।।

আটক শাহীনুর বেগম

কাপাসিয়া থানার এসআই দুলাল জানান, মঙ্গলবার ভোরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে ফজরের নামাজ পড়তে স্থানীয় মসজিদে যান শরীফ। এরপর এক পর্যায়ে শাহিনূর ঘরে থাকা গরু জবাই করা ছুরি দিয়ে ঘুমন্ত তিনমাসের শিশুপুত্র সাবিতকে গলা কাটার সময় শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে পাশে শুয়ে থাকা শিশুটির বড়বোন মালিহা (৬) জেগে উঠে। এ সময় রক্তাক্ত ছুরি দেখে কান্না শুরু করলে মালিহাকে হত্যার জন্য তেড়ে যায় মা। এ সময় মালিহা দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে তার দাদিকে গিয়ে ঘটনাটি জানায়।

পরে তার দাদি ও পরিবারের লোকজন ঘরে গিয়ে শিশু পুত্রটির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। শিশুটিকে হত্যার পর শাহীনুর বেগম নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

এ সময় স্বজনরা পুলিশে খবর দেয়। পরে  নির্বিকার অবস্থায় শাহীনূরকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শরীফকে থানায় নিয়ে আসে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান, দিগধা গ্রামের বাসিন্দা সাহিদ মিয়ার পুত্র মাওলানা মোঃ শরীফুল ইসলাম দিগধা দারুল উলুম সিনিয়র (ডিগ্রি) মাদরাসার ইবতেদায়ী শাখার হেড মৌলভী। তিনি আরও বলেন, শাহীনূর পাশ্ববর্তী উত্তরখামের মজিবুর রহমানের মেয়ে।

নিহত শিশুর মামা সোহাগ জানান,  তারা দুই ভাই ও পাঁচ বোন। এক মাস আগে সুস্থ অবস্থায় তার বোন স্বামীর বাড়ি যায়। সেখানে যাওয়ার পর তার টাইফয়েড জ্বর হয়। পারিবারিক জটিল কোনো সমস্যার খবর তারা পাননি।

তিনি আরও জানান, আট বছর আগে শরীফের সাথে তার বোনের বিয়ে হয়। তাদের ছয় বছরের একটি মেয়ে আছে। পার্শ্ববর্তী উত্তরখামে বাবার বাড়িতে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন শাহীনূর। এক মাস আগে তিনি স্বামীর বাড়িতে যান। ঘটনার রাতে ওই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাক-বিতন্ডা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। উৎসুক জনতার মনে নানা প্রশ্ন বিরাজ করছে। কেউ কেউ মনে করছেন হয়তো মা শাহীনূর মানসিক রোগী। তাই এমনটি হয়েছে। কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। তবে কি কারণে এই বর্বর হত্যাকান্ড ঘটেছে তা উদঘাটন করতে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি মোঃ আবু বকর সিদ্দিক