কাপাসিয়া কলেজে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র বিদোৎসাহী সদস্য পদ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট

কোর্ট রিপোর্টার:  বিধি লংঘন করে কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের গভর্ণিং বডিতে বিদোৎসাহী সদস্য পদে কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে মনোনীত করায় তার বিদোৎসাহী সদস্য পদ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।একই সঙ্গে তার মনোনয়ন সংক্রান্ত পত্র কেন অবৈধ ও বেআইনী ঘোষণা করা হবে না ৪ সপ্তাহের মধ্যে তার জবাব চেয়ে রুল জারি করে এবং গভর্ণিং বডির বিদোৎসাহী সদস্য পদে আমিনুর রশিদ আমিনকে মনোনীত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দেয় আদালত।

বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মোঃ সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট এ কে এম মোরশেদ। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডিএজি মোঃ মোকলেছুর রহমান ও এএজি সমেরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

এর আগে শিক্ষা সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক, গাজীপুর জেলা প্রশাসক,  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও পরিসংখ্যান ইউনিট কর্তৃপক্ষ ও কাপাসিয়ার মুক্তিযুদ্ধা মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে বিবাদী করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন(নং-৯৫১৯/২০১৭) দায়ের করেন কাপাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা মরহুম আব্দুর রশিদ মিয়ার পুত্র আমিনুর রশিদ আমিন।

রিট পিটিশনে বলা হয়,  গাজীপুর জেলার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ। কিছুদিন পূর্বে কলেজটির গভর্ণিং বডির নির্বাচন সম্পন্ন হয়। গত ৫ জুন গভর্ণিং বডির সভাপতি ও বিদোৎসাহী সদস্যের প্রস্তাব সহ বডির পূর্ণাঙ্গ তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিয়ে কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে আমেরিকায় বেড়াতে যান কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ছানাউল্লাহ।এসময় অধ্যক্ষের চলতি দায়িত্বে থাকা সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আব্দুছ ছালামের মাধ্যমে পুনরায় নতুন বিদোৎসাহী সদস্য হিসেবে আমিনুর রশিদ আমিনের পরিবর্তে কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র নাম পাঠানো হয়।

পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নির্দেশনায় কলেজ পরিদর্শক বিধি বহির্ভূতভাবে বিদোৎসাহী সদস্য হিসেবে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র নাম মনোনীত করে কলেজে প্রেরণ করেন।এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে আমিনুর রশিদ আমিন উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন।

রিটকারী আমিনুর রশিদ আমিন বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, একটি চক্র আমার প্রতি চরম অন্যায় করেছিল। আদালত ন্যায় বিচার করেছে।সত্যের বিজয় সব সময়ই হয়।

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হজে যাওয়ার কারণে তার প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।