কাপাসিয়া শীতলক্ষ্যা হাসপাতালে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া শহরস্থ শীতলক্ষ্যা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা সেবার আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ উঠেছে।

কোনো স্টাফ প্রতিবাদ করলেই তার চাকরি চলে যায়। তাকে নানাভাবে নির্যাতিত হতে হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার এসব অভিযোগ উল্লেখ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন হাসপাতালটির সেবিকা সালমা আক্তার ইশি। নোটিশে তা প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। ইশি কাপাসিয়া উপজেলার দস্যু নারায়নপুর গ্রামের আল-সাঈদের স্ত্রী বলে জানা গেছে।

ইশি তার লিগ্যাল নোটিশটি দেখিয়ে বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, “আমি গত ৯ বছর যাবৎ কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মেইন রোডের পাশে অবস্থিত শীতলক্ষ্যা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারের সেবিকা হিসেবে কর্মরত আছি। আমি দায়িত্ব পালনকালে গত ১৬ মে সকাল ১০ টার দিকে দেখতে পাই, হাসপাতালের নিচ তলার পেছনের একটি কক্ষে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির সাথে হাসপাতালের নার্স নাদিয়া  গোপন অভিসারে লিপ্ত রয়েছে। আমি তাৎক্ষণিক বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাই। টের পেয়ে আশপাশের মানুষ আসতে দেখে  হাসপাতালের ম্যানেজার রেজাউল ও ফার্মেসির তাপসের সহযোগিতায় ওই খদ্দের বিশেষ সম্মানে মেইন গেট দিয়ে বের হয়ে যায়। ”

“কিন্তু হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর খোকন সেনের নির্দেশে ম্যানেজার রেজাউল ও ফার্মেসির তাপস সহ নাদিয়া আমাকে শাসায়, আমি যেন এসব নিয়ে কিছু না বলি। আমি সত্যটা বলতে চাইলে তারা আমাকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে” বলছিলেন সালমা আক্তার ইশি।

ইশি’র স্বামী আল-সাঈদ জানান, হাসপাতালের লোকজন তার স্ত্রীকে হত্যা করে গুম করতে চেয়েছিল। ভাগ্যের জোড়ে সে বেঁচে গেছে। এতেও থেমে থাকেনি তাদের অপতৎপরতা।

“কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ইশি’র চিকিৎসা নিতে চাইলে হাসপাতালের লোকজন বাধা দেয়। তারপর গাজীপুরেও ভর্তি হতে দেয়নি তারা। ইশি’র চিকিৎসার প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই পরবর্তীতে নরসিংদীতে তাকে ভর্তি করি। চিকিৎসা চলছে। এখনও তার শারীরিক অবস্থা ভালো না।” বলছিলেন আল-সাঈদ।

তিনি আরও বলেন, “অপরাধ ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল মালিকপক্ষ, স্টাফ ও নাদিয়া গং জোট বেঁধেছে। তারা আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছে, কোথাও অভিযোগ করলে আমাদের মেরে ফেলবে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করবে। আমরা গরীব মানুষ। তাদের ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় বা আদালতে অভিযোগ দায়েরের সাহস পাচ্ছি না।”

কিন্তু নাদিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগই সঠিক নয়।

জানতে চাইলে হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর খোকন সেন নিজকে নির্দোষ দাবী করে বলেন, “ঘটনার দিন কী যেন নিয়ে ইশি ও নাদিয়া মারামারি করছিল। আগেও তারা মারামারি করেছিল। দুজনকেই হাসপাতাল থেকে বের করে দিয়েছি। চাকরি হারিয়ে এখন আমাদের ডুবাতে অপপ্রচারে নেমেছে।”

এদিকে, শীতলক্ষ্যা সহ অন্য প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে অসহায় মহিলা স্টাফদের সেক্সে বাধ্য করে এমন খদ্দের মালিকদের বিরুদ্ধে নজরদারী,যথাযথ তদারকি করে আইনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং দোষী ব্যক্তিদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছেন এলাকাবাসী এবং ভোক্তভোগীরা।