কালিয়াকৈরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১১ শ্রমিক দগ্ধ, তদন্ত কমিটি গঠন

গ্যাস সিলিন্ডার
গাজীপুর  প্রতিনিধি : কালিয়াকৈরে এফ এস কসমেটিক্স লিমিটেড কারখানায় মঙ্গলবার বিকেলে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকান্ডে কারখানার ম্যানেজারসহ অন্তত ১১ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছে।
এ ঘটনায় একই পরিবারের দু’ভাই ও এক বোন নিখোঁজ রয়েছে বলে স্থানীয়রা তাৎক্ষনিকভাবে জানিয়েছে।
এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রেরণ করেছে।
এদিকে ঘটনার তদন্তে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করেছে জেলা প্রশাসন।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার কবিরুল আলম ও স্থানীয়রা জানায়, কালিয়াকৈর উপজেলার জামালপুর এলাকায় এফএস কসমেটিক্স লিমিটেড কারখানায় এয়ার ফ্রেসনার, মেহেদী, সেভিং ফোম, সেভিং ক্রীম, হেয়ার কালার ও ক্রীমসহ বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স সামগ্রী তৈরি করা হয়। এ কারখানায় প্রায় ৩৫ জন শ্রমিক কাজ করে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উৎপাদন কাজ চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে কারখানার একটি গ্যাস সিলিন্ডারের বিষ্ফোরণ ঘটে। এতে একতলা ভবনের এ কারখানায় আগুন ধরে যায় এবং কারখানায় থাকা ক্যামিকেলে ছড়িয়ে পড়ে।
মুহুর্তেই আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে আরো কয়েকটি সিলিন্ডারের বিষ্ফোরণ ঘটে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে কারখানার ম্যানেজার জাকির হোসেন (৩৮), শেফালী আক্তার (৩০), নাজনীন (২৬) ও তার স্বামী আব্দুর রহিম (৩২)সহ অন্ততঃ ১১ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়। এসময় কারখানায় আটকা পড়ে কয়েক শ্রমিক দগ্ধ হয়। এ ঘটনায় একই পরিবারের দু’ভাই ও এক বোন নিখোঁজ রয়েছে বলে তাৎক্ষনিকভাবে তাদের পরিবার দাবী করে। এলাকাবাসি দগ্ধদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রেরণ করতে থাকে। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৬জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ও জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। রাত পৌণে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও রাত সাড়ে ৯টার ড্যাম্পিং ও উদ্ধার কাজ শেষ হয়।
কারখানার শ্রমিক শিল্পী জানায়, এ ঘটনার পর হতে কারখানার শ্রমিক লিটন হোসেন (২৫), তার ভাই সুমন হোসেন (২২) ও বোন নিখোঁজ রয়েছে।
স্থানীয় মধ্যপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নাজমা বেগম জানান, আহতদের মধ্যে ৪জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে এ ঘটনায় কেউ নিহত হয়েছে কি-না তা এ মুহুর্তে জানা যায়নি।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান লিটন ও মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সাইফুল আলম জানান, কারখানায় বিষ্ফোরণ ও অগ্নিকান্ডের কারণ এ মুহুর্তে নির্ণয় করা যায় নি। এ ঘটনায় ১০জন দগ্ধ ও আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৮জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে কারো লাশ উদ্ধার হয়নি বা এপর্যন্ত কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় নি। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের কর্মীরা রাত পৌণে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন পুরোপুরি নেভানোর জন্য রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ড্যাম্পিং ও উদ্ধার কাজ করে।
তদন্ত কমিটি গঠন
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, কারখানায় অগ্নিকান্ডের এঘটনা তদন্তে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কালিয়াকৈর থানার ওসি, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক’র একজন প্রতিনিধি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একজন প্রতিনিধি।
তিনি আরো জানান, ভিক্টিমদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হবে।