কেবল মার্চেই ৫১ আত্মহত্যা ৩০ শিশু হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে পারিবারিক ও সামাজিক নৃশংসতা  দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট। তারা বলছে, মার্চ মাসে শিশু হত্যা, শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ, পারিবারিক ও সামাজিক কোন্দলে নিহত ও আহত, নারী নির্যাতন, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ছিল উল্লেখযোগ্য হারে ।

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী মার্চে ৫১টি আত্মহত্যা, ৩০ শিশু হত্যা, পারিবারিক কলহে ৩২ জন নিহত, সামাজিক অসন্তোষে সহিংসতা ১৫ জন, সন্ত্রাসী অথবা দুর্বৃত্তের হাতে ১২০ জন, ক্রসফায়ারে ২১ জন, এসিড নিক্ষেপে পাঁচজন ও যৌতুকের কারণে পাঁচ নারীর মৃত্যু হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় মার্চ মাসে নিহত হন ১৯৪ জন। এছাড়া ৪৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্টে’র পাঠানো ওই পর্যবেক্ষণের তথ্যে বিষয়টি জানা গেছে।

আত্মহত্যা
মার্চ মাসে সারা দেশে আত্মহত্যা করেছে ৫১ জন। এদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারী ও তিনজন শিশু। পারিবারিক দ্বন্দ্ব, প্রেমে ব্যর্থতা, অভিমান, রাগ ও যৌন হয়রানি, পরীক্ষায় খারাপ ফল করার কারণেও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা বিভাগে আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি।

ধর্ষণ
মার্চ মাসে মোট ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪৫ জন নারী ও শিশু। এদের মধ্যে শিশু ২২ জন। ১৬ জন নারী। সাতজন নারী গণধর্ষণের শিকার হন। ধর্ষণের পর চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয় বরিশালে।

শিশু হত্যা
মার্চ মাসে ৩০ শিশুকে হত্যা করা হয়। এদের মধ্যে পিতা-মাতা কর্তৃক খুন হয় চার শিশু। বরিশালে এনজিওর টাকা শোধ করতে না পারায় ৯ মাসের শিশুকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন মা। নারায়ণগঞ্জে চুরির অপবাদ দিয়ে এক মাদরাসা ছাত্রকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ৩ মাসের ছেলে সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করে মা।

যৌতুক
মার্চ মাসে যৌতুকের কারণে প্রাণ দিতে হয়েছে পাঁচজন নারীকে । নির্যাতনের শিকার হন তিনজন। সিলেটে যৌতুকের জন্য স্ত্রীর উপর বর্বর নির্যাতন করে পালিয়ে যায় পাষণ্ড স্বামী। শরীয়তপুরে যৌতুকের দাবিতে নার্গিস আক্তার নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

পারিবারিক কলহ
পারিবারিক কলহে মার্চ মাসে নিহত হন ৩২ জন, পুরুষ ১৩ জন এবং নারী ১৯ জন। এদের মধ্যে স্বামীর হাতে নিহত হন ১৪ জন স্ত্রী। আর স্ত্রীর হাতে নিহত হন পাঁচজন স্বামী। খুলনায় পারিবারিক কলহের জেড়ে স্বামীর হাতে নিহত তাসলিমা খাতুন, যিনি একজন গৃহবধূ। পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, রাগ, পরকীয়াসহ বিভিন্ন কারণে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে বিএমবিএস’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক অসন্তোষ
সামাজিক অসন্তোষে সহিংসতার শিকার হয়ে ওই মাসে নিহত হন ১৫ জন। আহত হন ৫০৫ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক সহিংসতায় আহত ও নিহতের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন এক মুক্তিযোদ্ধা। রাজধানীর খিলক্ষেতে চা পানকে কেন্দ্র করে যুবককে হত্যা করা হয়।

খুন
মার্চ মাসে দেশে সন্ত্রাসী কর্তৃক নিহত হন ১২০ জন। খাগড়াছড়িতে ইতি চাকমা নামে এক কলেজছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। মেহেরপুরে চাঁদা না পেয়ে দুই ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্ত ।

ক্রসফায়ারে নিহত
মার্চ মাসে ক্রসফায়ারে মৃত্যু হয় ২১ জনের। এর মধ্যে পুলিশের হাতে ১৮ জন এবং র‌্যাবের হাতে তিনজন নিহত হন।

অন্যান্য সহিংসতার ঘটনা
মার্চ মাসে একজন এসিড নিক্ষেপের শিকার, মাদকের প্রভাবে নিহত পাঁচজন, আহত হন ১৫ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় মার্চ মাসে নিহত হন ১৯৪ জন ও আহত ২৯৯ জন। তাছাড়া পানিতে ডুবে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করেছে ৯৬ জন। গণপিটুনিতে নিহত হয় আটজন,আহত হয় দুইজন। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয় একজনের। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী দমন অভিযানে গণগ্রেফতার হয় ৫০৭ জন।