ক্ষমতার দাপটে অবৈধভাবে চলছে হোটেল রেইনট্রি

চ্যানেল ডেস্ক: কোনো আইনগত ভিত্তি নেই, ক্ষমতার দাপটে অবৈধভাবে চলছে রাজধানীর বনানীস্থ হোটেল রেইনট্রি।এ হোটেলটিতে দুই তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এর  কোনো বৈধতাই নেই বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ রাজউকের একজন কর্মকর্তা। যে প্লটে এই হোটেলটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটি ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য বজলুর রহমানের। তবে বজলুর রহমান দাবি করেছেন, হোটেলটি তার ছেলের নামে।

বনানী আবাসিক এলাকায় কে ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বর প্লটে গড়ে তোলা হয়েছে হোটেল রেইনট্রি। এটি আবাসিক প্লট হিসেবেই নেয়া হয়েছে। এই প্লটে হোটেল তৈরির পর সেটি চালান সংসদ সদস্যের ছোট ছেলে মাহির হারুন চালান।

রেইন ট্রি আন্তর্জাতিক চেইন হোটেল। সিঙ্গাপুরভিত্তিক এই হোটেলটির শাখা খোলা হয় বাংলাদেশে। গত ২৮ মার্চ এই হোটেলেই জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে দুই তরুণীতে ধর্ষণ করা হয় বলে গত ৬ মে করা মামলায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের একজন। অথচ হোটেলটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে আরও পরে, ৯ এপ্রিল। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই সেখানে কীভাবে কার্যক্রম চলছিল, তার কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি হোটেল কর্তৃপক্ষ। আবার হোটেলটিতে মদ বিক্রির কোনো অনুমোদন না থাকলেও সেখানে মদ বিক্রির প্রমাণ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দারা। সেখানকার একটি হোটেল থেকে ১০ বোতল মদ উদ্ধারও করা হয়েছে।

রাজউকের নীতিমালা অনুযায়ী আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা আলাদা করা আছে। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান চলবে বলে ঘোষণাও আছে। এরই মধ্যে রেইনট্রি হোটেল তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

রেইনট্রি হোটেলটি যে এলাকায় অবস্থিত সেটি রাজউকের অঞ্চল-৪ এর অধীন। এর অথরাইজড অফিসার আদিলুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা আবাসিক এলাকা। এখানে বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেই অনুমোদন নেওয়াই হয়নি।’

এই কর্মকর্তা এও জানান যে, গত ৯ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর ছয় দিনের মাথায় সেটি বন্ধ করে দিয়ে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু পরে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তারা কার্যক্রম শুরু করে।

আদিলুজ্জামান জানান, রেইন ট্রির বিরুদ্ধে নতুন করে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে জন্য তারা বৈঠকে বসেছেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সে বৈঠক চলছিল।

হোটেলটিতে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের অভিযানের পর সোমবার এর মালিকপক্ষকে আগামী ১৭ মে তলব করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে গত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভ্যাট নিবন্ধন নিলেও কোনো অর্থ পরিশোধ না করে ওই হোটেল কর্তৃপক্ষ আট লাখ ১৫ হাজার টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

অবৈধভাবে কার্যক্রম চালানো এবং ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে জানতে হোটেল রেইনট্রির ওয়েবসাইটে দেয়া ফোন নম্বরে কল করে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।