কড়াইল বস্তিতে মধ্যরাতে লাগা আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে মধ্যরাতে লাগা ভয়াবহ আগুন সকাল বেলাতেও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনে বস্তিবাসীর চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে একটির পর একটি ঘর!

নিজেদের ঘর-বাড়ি আগুনে পুড়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়া মানুষেরা। তাদের আহাজারি ভারী হয়ে উঠেছে মহাখালীর কড়াইল বস্তি এলাকা।

মধ্যরাত থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের সঙ্গে কাজ করছেন স্থানীয়রা। সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আগুন লাগা ঘরগুলিতে পৌঁছাতে পারছে না। দূর থেকে পাইপ দিয়ে পানি টেনে নিতে হচ্ছে কর্মীদের।

বুধবার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটের কড়াইল বস্তির বউবাজারের বড় মসজিদ সংলগ্ন দোতলা একটি বাসায় আগুনের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক ‍বাসিন্দা বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, বাতাসের বেগে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন যাতে না ছড়‍ায় তাই লাঠিসোঁটা দিয়ে ঘরের টিন ভাঙেন তারা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাদের চোখের সামনেই পুড়ে যায় বউবাজারের দুই-তৃতীয়াংশ বাড়ি-ঘর।

শুধু বউবাজার নয়, ঝিলপাড়ের একাংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানান ওই স্থানীয় বাসিন্দা।

ফায়‍ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মিজানুর রহমান বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, রাত ২টা ৫০ মিনিটে কড়াইল বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ামাত্র আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৪ উইনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

পরে আগুনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের আরও কয়েকটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যুক্ত হয়। তবে সকাল ৭টা পর্যন্ত পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

বনানী থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. বোরহান উদ্দিন বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, ‍আগুন লাগার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে চলে আসি। নিরাপত্তা কর্মী ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ ডিসেম্বরও কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগে। এতে প্রায় সাড়ে ৪শ’ ঘর ভস্মীভূত হয়। তারও আগে একই বছরের ১৪ মার্চেও রাজধানীর এ বস্তিতে আগুনে পুড়ে যায় অর্ধশত ঘর।