গরু চোর সন্দেহে কাপাসিয়ায় গণপিটুনিতে ২ যুবক নিহত, আহত ১

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শনিবার বিকেলে কাভার্ড ভ্যানযোগে গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই যুবক নিহত এবং ভ্যান চালক আহত হয়েছে। নিহতরা হলো- কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার ভৈরব গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেবের ছেলে আলম (৩৮) ও তার সহযোগী আবুল কালাম (৩৫)।

কাপাসিয়া থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান খান ও স্থানীয়রা জানান, গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান দ্রুতগতিতে পার্শ্ববর্তী কাপাসিয়ার উপজেলার ভূঁইয়াবাড়ী বড়সিট এলাকা দিয়ে শনিবার বিকেলে চলে যাচ্ছিল। আঁকাবাঁকা সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় ভুঁইয়াবাড়ী এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে কাভার্ডভ্যানটি সড়কের পাশে ধান ক্ষেতে উল্টে পড়ে যায়। এসময় কাভার্ডভ্যানের ভেতরে থাকা গরু ডাকাডাকি শুরু করে। এসময় আশেপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে গরু উদ্ধার করে এবং চালকসহ কাভার্ডভ্যান আরোহী ৩জনকে আটক করে।

পরে এলাকাবাসি আটক কাভার্ডভ্যান চালক ও কাভার্ডভ্যান আরোহী ওই দুই যুবককে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই দুই যুবক নিহত ও ভ্যান চালক গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলম ও আবুল কালামকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় গরুসহ কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। আহত কাভার্ড ভ্যান চালক মোঃ মোকসেদ (৩৮) ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার ইমামবাড়ী এলাকার রজব আলীর ছেলে।

কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক হাসান জামিল কল্লোল বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, দু’যুবককে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। অপর আহত মোঃ মোকসেদকে (৩৮) গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছে। এর মধ্যে গরু ও কাভার্ডভ্যান উদ্ধারের একটি মামলা এবং দু’জনকে হত্যার জন্য অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে দায়ী করে অপর একটি মামলা।

উল্লেখ্য, চাঁদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম এবং কাপাসিয়া ইউনিয়নের পাবুর গ্রাম সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সম্প্রতি বেশ কিছু গরু চুরি যাওয়ার ঘটছে। গরু চুরি রোধে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।