গাজীপুরে দেনাদার খুন, পাওনাদারের যাবজ্জীবন

রেজাউল সরকার (আঁধার) : গাজীপুরে দেনা শোধ না করায় মোঃ নীরুমিয়া ওরফে বিজয় (২৬) নামের দেনাদারকে হত্যার দায়ে পাওনাদারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। এসময় আদালত অসামীকে আরো ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন।
বুধবার দুপুরে গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালেতের বিচারক একে এম এনামুল হক এই রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্ত মোঃ ফরহাদ হোসেন ওরফে মারুফ (৩০) গাজীপুর মহানগরের বারোবৈকা এলাকার নান্নু মিয়ার ছেলে।
গাজীপুর আদালতের পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, মহানগরের বারোবৈকা এলাকার মৃত মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হকের ছেলে মোঃ নীরু মিয়া ওরফে বিজয়ের কাছ থেকে একই এলাকার নান্নু মিয়ার ছেলে মারুফ ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে কিছুদিনের জন্য ৫০ হাজার টাকা ধার হিসেবে নেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিজয় টাকা পরিশোধর জন্য মারুকে তাগাদা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মারুফ বিজয়কে হত্যার হুমকী দেয়। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য বিজয় বিষয়টি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিকট জানায়। এক পর্যায়ে গত ২০১২ সালের ১০ মে মারুফ তার ভাই সোহরাব (২৮) ও বোন শাহনাজ বেগম (৩৫) কে সঙ্গে নিয়ে বিজয়ের বাড়ি গিয়ে তার টাকা পরিশোধ করে দিবে বলে স্ট্যাম্প নিয়ে তাদের সঙ্গে যেতে বলে। এসময় বিজয় স্ট্যাম্পসহ তাদের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এর দুইদিন পর স্থানীয় মো. কফিল উদ্দিনের বাসার পশ্চিমে একটি ডোবায় বিজয়ের লাশ পাওয়া যায়। বিজয় মহানগরের নগপাড়া এলাকার একটি তৈরী পোষাক কারখানয় কার করতো।
এ ঘটনায় নিহতের মা নিলুফার বেগম বাদি হয়ে ওই বছরের ১৩ মে জয়দেবপুর থানায় মামলা ওই তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। জয়দেবপুর থানার এআই এসএম কামরুজ্জামান তদন্ত করে ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে তাদের নামে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১১জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ দীর্ঘ শুনানীশেষে আদালত সোহরাব হোসেন ও শাহনাজ বেগমকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস ও ফরহাদ হোসেন ওরফে মারুফকে দন্ড দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে পিপি মো. হারিছ উদ্দিন আহম্মদ এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন ওই মামলাটি পরিচালনা করেন।