গাজীপুরে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

 রেজাউল সরকার(আঁধার), গাজীপুর : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে নারী নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় তোপের মুখে পড়েছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শর্মিলী দাস মিলি।
বুধবার বিকেল মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানদের তোপের মুখে পড়েন। পরে উপস্থিত সভায় তিনি সকলের কাছে নিঃশর্তে ক্ষমা চান।
জানা গেছে, চলতি মাসের ৬ তারিখে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে নারী নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন ওই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। তার ওই স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়ে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিন্দার ঝড় উঠে।
এছাড়া উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও ইউএনও বরাবর ডাকযোগে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের পক্ষে থেকে একটি লিখিত অভিযোগ আসে। যাতে ছিল ওই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ। এ নিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের কেউ পরতে হয় রোশানলে।
পরে বুধবার বিকেলে উপজেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় ইউপি চেয়ারম্যানরা বিষয়টি উত্থাপন করলে সকলের সম্মতিক্রমে ওই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব উঠে। পরে উপস্থিত সকলের কাছে নিঃশর্তে ক্ষমা চান এবং ওই ফেসবুক স্ট্যাটাস মুছে দেওয়া ও এর পরিবর্তে আরেকটি স্ট্যাটাস দিবেন বলে অঙ্গীকার করেন।
এ ব্যাপারে তার বক্তব্য নেয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শর্মিলী দাস মিলিরফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড় ফেসবুুক থেকে নেয়া স্ট্যাটাস অবিকল:
“একটি সচেতনতামূলক পোস্ট :
আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি সকলের কাছে কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, আমার পরিচিত একজন লোক আছে যে কিনা মানুষের পর্দা নিয়ে কথা বলে, ঘোমটা নিয়ে কথা বলে। আজও সেই লোক তার ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়া বৌকে (মানুষের কাছে বলে বেড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা) নিয়ে একটি গ্রুপ ছবি ফেসবুকে আপলোড করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে অতি হস্তিকায় আকৃতি সালোয়ার কামিজ পড়া বৌয়ের ওড়নার জায়গায় ওড়না নাই, চিড়িয়াখানার জন্তুর মত Show করাচ্ছে। এর  চেয়ে বেশি আর বর্ননা দিতে পারছি না।
আমি মানুষকে নিন্দা করতে শিখিনি। আমার মূল বক্তব্য হল যাদের নিজেদের ভিতরটা ফাঁকা তাদের নিজেদের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। তার পরে সমাজের কথা ভাবা উচিত। আর আপনি যদি মনে করেন নিজের বৌকে বাজে Appearance -এ Show করিয়ে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষন করবেন তাহলে  লোক সমাজে সভ্য মহলে না করাই ভাল। তাতে পরিবেশ নষ্ট হয়। তার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে  নেন।
অপ্রিয় সত্যি বলার জন্য দুঃখিত।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শর্মিলী দাস মিলি বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, “গত ছয় তারিখে ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমি দিয়েছিলাম তার কারন, এক ব্যক্তি আমাকে ঘোমটা প্রসংগ টেনে বেশ কয়েক দিন বাজে ভাবে কথা বলেছে। প্রথম দিন তাকে নিষেধ করার পরও নিজেকে ঐ ব্যক্তি শুধরে নিতে পারেনি। বেশ কয়েক দিন সে একই কাজ করে। সমাজে এই রকম কিছু মানুষ আছে যারা অন্যায় ভাবে অনধিকার চর্চা করতে যায় যারা নিজেরাই ঠিক নাই, যাদের নিজেদেরই গোঁড়ায় গলদ।এটাকে আমাদের সমাজের সমস্যা হিসেবে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে সমাজের ভাল চিন্তা করে, সমাজের মংগল চিন্তা করে স্ট্যাটাসটি দিয়েছিলাম। এতে যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকে, কষ্ট পেয়ে থাকে সেটা একেবারেই অনাকাংখিত ও খুবই দু:খজনক।কিন্তু এটাকে কেন্দ্র করে গত দুই দিন যাবত অতি রঞ্জিত মিথ্যা ও উদ্দ্যেশ্য প্রনোদিত ভাবে বেশ কিছু অনলাইন পত্রিকায় যেভাবে সংবাদ পরিবেশন করছে সেটা খুবই দু:খজনক। আমি এই বিষয়টির তীব্র নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সব শেষে সত্যেরই জয় হয়।”