গাজীপুর ক্রীড়া সংস্থার ব্যাডমিন্টন কমিটি নিয়ে চলছে সমালোচনা

ব্যাডমিন্টন কমিটি

গাজীপুর প্রতিনিধি: প্রায় ছয় বছর ধরে গাজীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন না হওয়ায় সকল উপকমিটি ঝিমিয়ে পড়েছে। যার ফলে কোনো কোনো উপকমিটিকে সংশ্লিষ্টরা ‘পকেট কমিটি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। জেলা ব্যাডমিন্টন আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা।  অপরদিকে জেলার ক্রীড়ায় কিছু সফলতা থাকলেও জেলা শহরে খেলাধুলা করার তেমন সুযোগ-সুবিধা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর এক মাস মেয়াদে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অনুমোদনক্রমে ১৭ সদস্যের ব্যাডমিন্টন আহ্বায়ক কমিটি (সাব কমিটি) গঠিত হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানা এরশাদ ও সদস্য সচিব মো. খলিল উল্যাহ সরকার রুমি।

কয়েক ক্রীড়া প্রেমী নাম গোপনের শর্তে অভিযোগ করে বলেন, অযোগ্যদের দিয়ে ব্যাডমিন্টন আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জামাল হোসেন। কমিটির ১৭ সদস্যের সবার বাড়ি রথখোলায়। খেলাধুলা সংক্রান্ত জ্ঞান কারো নেই। কখনো কোনো খেলা পরিচালনা করেনি এ কমিটির সদস্যরা।  অথচ অনবিজ্ঞ জামাল হোসেন ব্যাডমিন্টন খেলা পরিচালনার দায়িত্ব তাদের উপর অর্পিত করেছেন।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নিয়ম অনুযায়ী জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু নির্বাচন না হওয়ার ফলে ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে তাপ-উত্তাপ বলে কিছু নেই।  এ কারণে উপকমিটির নির্বাচনও হচ্ছে না। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদারকির ঘাটতি এবং চরম গাফিলতির কারণে খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে পড়ছে গাজীপুর।  এ কারণে গাজীপুরের ক্রীড়ামোদীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ব্যাডমিন্টন কমিটির আহ্বায়ক দেশের বাহিরে থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে মুঠোফোনে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জামাল হোসেনের মন্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মঞ্জুর মোর্শেদ প্রিন্স বলেন, ২০১২ সালের ২৪ মার্চ জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি হয়। কিন্তু প্রায় ছয় বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় জেলার ক্রীড়া ক্ষেত্রে হতাশা বিরাজ করছে। ওই সময়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে তিন মাসের জন্য একটি অ্যাডহক কমিটি করে দেয়া হয়।  তিন মাস পার হওয়ার পর ওই কমিটি বার বার সময় বাড়িয়ে টিকে আছে। এ সময়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনের একটি সিডিউল ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে সে নির্বাচন হয়নি। বিধি মোতাবেক নির্বাচনের সিডিউল বাতিল হলে পূর্বের কমিটি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

অপরদিকে শহরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে বিভিন্ন বয়সের মানুষ খেলাধুলা করলেও বছরের বিভিন্ন সময়ে এ মাঠটি থাকে বিভিন্ন মেলা ও অনুষ্ঠান আয়োজকদের দখলে। এতে খেলাধুলায় বিঘ্ন ঘটে। বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত শিল্পনগরীতে খেলাধুলার জন্য মাঠের তীব্র সংকট রয়েছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকলেও স্থান অভাবে প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন না।  মূলত সমন্বয়ের অভাবে এমন হচ্ছে বলে জানান মঞ্জুর মোর্শেদ প্রিন্স।

বিশিষ্টজনদের অভিমত, গত ৫ বছর ৯ মাস যাবত ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন হয়নি। ব্যাডমিন্টন তার ব্যতিক্রম নয়। অন্যদিকে উদ্যোগ ও আন্তরিকতার অভাবে ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন চলে গেছে নির্বাসনে। তাই অবিলম্বে নির্বাচন আয়োজনের দাবি ক্রীড়া প্রেমিদের।