জুতা পড়ানোকে কেন্দ্র করে কাপাসিয়ায় অন্তঃসত্বা নারীর আত্মহত্যা

কাপাসিয়া

মোঃ রুহুল আমীন : জুতা পড়ানোকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ৯ মাসের অন্ত:সত্বা শামীমা আক্তার স্বপ্না (২৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।তিনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা যায়।

১৭ জানুয়ারি বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করেন কাপাসিয়া থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, স্বপ্না কাপাসিয়া উপজেলার খোদাদিয়া গ্রামের চাঁনমিয়ার মেয়ে।

নিহতের ফুফাত বোন মোসা. বৃষ্টি ও থানা সূত্র জানান, স্বপ্না স্বামীর সাথে কাপাসিয়া উপজেলা শহরের বরুন রোড সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বুধবার সকালে স্কুল পড়ুয়া শিশু (৮)কে তাঁর মা জুতা পড়াতে গিয়ে স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া সৃষ্টি হয় এবং স্বামী আলমগীর স্ত্রীকে মারধর করেন। পরে স্ত্রী স্বপ্না কোনো এক ফাকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রতিবেশিরা জানান।

ঘটনার পর থেকেই স্বামী আলমগীর পলাতক। তার বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার লোহাগাছিয়া গ্রামে।

স্থানীয় মোহাম্মদ শামীম মোল্লাহ জানান, “স্বপ্না ৯ মাসের অন্তঃসত্বা ছিলেন। তিনি অনেক ভালো মেয়ে ছিলেন। তার স্বামী আলমগীর বহু দিন যাবৎ মেয়েটির উপর অমানুষিক অত্যাচার করে আসছিলেন।আলমগীরের যন্ত্রণায় মেয়েটি বহু বার বাপের বাড়িতে চলে গিয়ে ছিলেন। আর যত বার স্বপ্না রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যেতেন তত বার আলমগীরের মা বাবা বোন সবাই এসে স্বপ্নাকে মিথ্যা কথা বলে শশুর বাড়িতে নিয়ে যেতেন এবং সবাই মিলে স্বপ্নার উপর নির্যাতন করতেন।এমনটাই বলে গেছেন স্বপ্না।”

স্বপ্নার আত্মহত্যার ঘটনা নিশ্চিত করে কাপাসিয়া থানার ডিউটি অফিসার এস আই রাহাদুজ্জামান বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, বিকাল সাড়ে চারটার দিকে লাশ ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের বাবা চাঁনমিয়া বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি অপমৃত্য মামলা দায়ের করেছেন।

জানতে চাইলে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডিপার্টমেন্ট এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোঃ সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “অাত্মহত্যা করতে বাধ্য করার অপরাধে আলমগীর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি আইনে মামলা করা যাবে। স্বপ্নার পরিবার চাইলে আমরা মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।”