জয়পুরহাটে ঋণ পরিশোধ না করায় গরু নিয়ে গেল এনজিও কর্মকর্তারা

নিয়াজ মোরশেদ, জয়পুরহাট: আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুরে ‘ঠিকানা সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার  পরিচালক ও তাঁর লোকজনেরা ঋণ গ্রহিতার স্বজনের বাড়িতে গিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে দুইটি গরু ও একটি মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে এনজিওর লোকজন গরু দুটি ফেরত দিয়েছে এবং মাটরসাইকেলটি পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন এনজিও ঠিকানার পরিচালক উজ্জল হোসেন। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার উপজেলার তিলকপুর কাচারিপাড়া গ্রামের।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, উপজেলার তিলকপুর কাচারিপাড়া গ্রামে সুজন হোসেন তার সমন্ধী প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে থাকতেন। তিলকপুর বাজারে প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের হার্ডওয়ারের দোকান দেখাশোনা করতেন। সুজন হোসেন তাঁর সমন্ধীর দোকান দেখিয়ে প্রতিদিনের ভিত্তিতে স্থানীয় কয়েকটি এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নেন। এনজিও ঋণে জর্জরিত হয়ে সুজন হোসেন তাঁর পরিবার নিয়ে সমন্ধীর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর দেলোয়ার হোসেনের বড় বোন ফরিদা বেগম বাড়িটিতে ওঠেন। গত রোববার দুপুরে ‘ঠিকানা সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে তিলকপুর শাখার একটি এনজিওর পরিচালক ভাড়াটে লোকজন নিয়ে প্রবাসী দেলোয়ারের বাড়িতে গিয়ে দুইটি গরু ও একটি মোটরসাইকেল বের করে নিয়ে আসেন। পরে এনজিওর লোকজন দুইটি গরু ফেরত দিলেও মোটরসাইকেলটি ফেরত দেননি।

গত সোমবার দুপুরে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আক্কেলপুর থানায় কথা হয় প্রবাসী দেলোয়ারের বোন ফরিদা বেগমের। তিনি বলেন, আমার ভাই দেলোয়ার হোসেন দুবাই থাকেন। বোন জামাই সুজন হোসেনকে বাড়িতে এনে রাখেন তার দোকান ও বাড়ি দেখাশোনার জন্য। বোন জামাই সুজন হোসেন তিলকপুর বিদ্যুৎ মার্কেটে দেলোয়ার হোসেনের হার্ডওয়ার দোকান দেখাশোনা করতো। সুজন হোসেন ওই দোকান দেখিয়ে কয়েকটি এনজিও থেকে ঋন নিয়ে ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েন। প্রায় ১০-১২ দিন আগে বোন জামাই সুজন হোসেন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তখন থেকে তিনি এসে বাড়িতে থাকছেন। গত রোববার দুপুরে এনজিও ঠিকানার মালিক তাঁর ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে দোলোয়ারের বাড়িতে ঢুকে ত্রাস সৃষ্টি করে দুইটি গরু ও একটি মোটরসাইকেল বের নিয়ে যায়। তিনি ঘটনাটি থানায় জানালে এনজিওর লোকজন দুটি গরু ফেরত দিয়েছে। কিন্তু তাঁরা মোটরসাইকেলটি ফেরত দেননি। গরু ও মোটরসাইকেল আমার ভাই দোলোয়ারের।এবং মোটরসাইকেলের কাগজপত্রও দেলোয়ারের নামে রয়েছে। এনজিওর লোকজনরা জোর করে মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমি মটরসাইকেলটি ফেরত চাওয়ায় এনজিওর লোকজন তাঁকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিচ্ছে। এঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেছেন।

এনজিও ঠিকানার পরিচালক উজ্জল হোসেন বলেন, সুজন হোসেন আমার এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমি মহড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে লোকজন নিয়ে সুজন হোসেন যে বাড়িতে থাকত সেখানে গিয়েছিলাম। আমরা সেই বাড়িতে দুইটি গরু ও একটি মোটরসাইকেল পেয়েছিলাম। গরু দুটি ফেরত দিয়েছি আর মোটরসাইকেলটি থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। সুজন হোসেন আমার এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিলকপুর হাট থেকে গরু দুটি কিনেছিল।

আক্কেলপুর থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) শামিম হোসেন বলেন, সুজন হোসেন এনজিও ঠিকানা থেকে ঋণ নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এঘটনায় এনজিওর লোকজনেরা সুজনের আত্বীয় দেলোয়ারের বাড়ি থেকে দুইটি গরু ও একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে গরু দুটি ফেরত দিয়েছে। মোটরসাইকেলটি থানা হেফাজতে রাখা রয়েছে। এঘটনায় দেলোয়ারের বোন ফরিদা বেগম থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, ঋণগ্রহিতার আত্বীয় স্বজনেরা এনজিওর লোকজন সঙ্গে বসে ঘটনাটি মিটমাট করে নেবেন বলে আমাকে জানানো হয়েছে।

নিয়াজমোরশেদ
আক্কেলপুর,জয়পুরহাট
মোবাঃ ০১৭২৫১৪১৭৫৫।