জয়পুরহাটে পুলিশের সঙ্গে বাটপারি, দেড় লাখ টাকায় রফা!

নিয়াজ মোরশেদ, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার এসআই মামুন তাঁর ব্যবহৃত ১৩৫ সিসির ডিসকোভার মোটরসাইকেলটি বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজছিলেন। তিনি মোটরসাইকেলটি বিক্রির জন্য স্থানীয় কয়েকজন মেকারকে বলেও রেখেছিলেন। গত বুধবার বিকেলে স্থানীয় মোটরসাইকেল মেকার হাশেম আলী একজন গ্রাহককে সঙ্গে নিয়ে এসআই মামুনের কাছে যান। ওই গ্রাহক তাঁর সঙ্গে থাকা এক কিশোর রেখে মোটরসাইকেলটি ট্রায়াল দেওয়ার কথা বলে উধাও হন।

পরে এ ঘটনায় মোটরসাইকেল মেকারসহ তিনজনকে থানায় আনা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে টাকার বিনিময়ে রফা হওয়ার পর তিনজনকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন- ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের কাঠমিস্ত্রি নয়ন হোসেন (৩৮), একই গ্রামের কিশোর মনোয়ার হোসেন (১৪) ও আক্কেলপুর পৌরশহরের প্রধান সড়কের ডাকঘর এলাকার মোটরসাইকেল মেকার হাশেম আলী (৩৪) ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে জামালগঞ্জ চারমাথায় এক ব্যক্তি নিজেকে বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) আশার আলোর কর্মকর্তার পরিচয়ে এনজিওর কার্যালয় খোলার জন্য ভাড়া বাসা খুঁজছিলেন। এসময় সঙ্গে তাঁর ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের কাঠমিস্ত্রি নয়ন হোসেন সাক্ষাত হয়। এসময় ওই ব্যক্তি কয়েক ঘন্টার মধ্যে তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এসময় ওই ব্যক্তি এনজিওতে পিয়ন পদে নিয়োগ নেওয়ার কথা জানালে নয়ন তাঁদের গ্রামের কিশোর মনোয়ার হোসেন ডেকে আনেন। ওই ব্যক্তি মনোয়ারকে পিয়ন হিসেবে পছন্দ করেন।

এরপর তিনি মোটরসাইকেল কেনা কথা বলে বুধবার বিকেলে মনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে আক্কেলপুর শহরের ডাকঘর এলাকার মোটরসাইকেল মেকার হাশেম কাছে আসেন। তিনি মোটরসাইকেলের মেকার হাশেমের কাছে এসে একটি পুরাতন মোটরসাইকেলের ক্রয় করার কথা বলেন। তখন হাশেম আলী থানার এসআই মামুনের ১৩৫ সিসির ডিসকোভার মোটরসাইকেলটি দেখাতে থানা মোড়ে নিয়ে আসেন। সেখানে এসআই মামুন মোটরসাইকেল নিয়ে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। মেকার হাশেম তাঁদেরকে সঙ্গে নিয়ে এসআই মামুনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের বিষয়ে আলাপ করেন।

এরপর মেকার হাশেম এসআই মামুনের কাছ থেকে মোটরসাইকেলের চাবিটি নেন। তখন ওইব্যক্তি মোটরসাইকেল ট্রয়াল দিতে চাইলে এসআই মামুন রায়হান নামে স্থানীয় দোকানীকে তাঁর সঙ্গে দিতে চান। এতে আপত্তি জানিয়ে তিনি একাই মোটরসাইকেল ট্রায়াল দিতে চান।

তখন মেকার হাশেম বলেন ওইব্যক্তির সঙ্গের একজন ছেলে আমাদের কাছে আছে বলে এসআই মামুনকে অভয় দেন। ওইব্যক্তি মোটরসাইকেল ট্রায়াল দিতে চলে যান। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত তবুও তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে আর ফিরেননি ওইব্যক্তি। তখন তাঁরা কিশোর মনোয়ারের কাছে ওইব্যক্তির পরিচয় সর্ম্পকে জানতে চাইলে ঘটনাটি খুলে বলে সে। এঘটনায় এসআই মামুন মোটরসাইকেল মেকার হাশেম, কিশোর মনোয়ার ও কাঠমিস্ত্রি নয়নকে থানায় আনা হয়। পরে দেড় লাখ টাকায় রফা হলে তাঁদের থানা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কাঠমিস্ত্রি নয়ন হোসেন বলেন, আমি লোকটিকে চিনি না। এনজিও আশার আলোর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জামালগঞ্জ চারমাথায় ভাড়া বাসা খুঁজছিলেন। তখন আমার সঙ্গে কথায় হয়। তিনি আমাকে এনজিওতে পিয়ন পদে লোক নিয়োগে কথা বলেন।তখন আমাদের গ্রামের কিশোর মনোয়ার হোসেন পিয়ন পদে নিয়োগের জন্য বলি। এরপর মনোয়ারকে সঙ্গে আক্কেলপুর শহরে আসেন। ওই ব্যক্তি এমন ঘটনা ঘটাবে তা কখনো ভাবিনি। এখন আমাকে তার দন্ড দিতে হচ্ছে।

কিশোর মনোয়ার হোসেন বলেন, আমি লোকটিকে কখনো দেখিনি চিনিও না। আমাকে পিয়ন পদে নিয়োগ দেবে বলে আক্কেলপুরে এনে এসআইয়ের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে।

মোটরসাইকেলের মেকার হাশেম আলী বলেন, আমি লোকটিকে চিনি না। ওই লোকের সঙ্গে আসা একজন ছেলেকে রেখে মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলে যান। ওই ছেলেটিও লোকটিকে চিনে না। আমরা মোটরসাইকেলের ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছি।

এসআই মামুন বলেন, আমি আমার মোটরসাইকেলটি বিক্রি করব বলে মেকার হাশেম জানিয়েছিলাম। গত বুধবার বিকেলে মেকার দুই লোক এনে আমার মোটরসাইকেলটি দেখেন। এরপর ট্রয়াল দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলটি নিয়ে উধাও হন। আমি মোটরসাইকেল ট্রয়াল দেওয়ার সময় একজন লোক দিতে চেয়েছিলাম। কিন্ত আমার কথা শোনেনি। ওই তিনজন আমাকে মোটরসাইকেলের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তারপরও মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।