ট্রেনের টিকেটে যাত্রীর নাম ‘প্রিন্ট’

এ সংবাদটি পেয়ে আমি আৎকে উঠলাম। এ কেমন কথা। টিকেটে নামের কি দরকার। তাছাড়া নামের সাথে নাকি পরিচয়পত্র থাকতে হবে। আমি তো ফিট। কবে জানি এসএসসি সার্টিফিকেট, জন্মসনদ, রক্তের গ্রুপ, পুলিশ ভেরিফিকেশন এসব যাচাইবাছাই শুরু হয়।

যারা ট্রেনে কমলাপুর থেকে ট্রেনের টিকেট কিনে অভিজ্ঞতা আছে তারা এক বাক্যেই স্বীকার করবেন ছি ছি এটা কেমন হলো? এখনতো দেখছি আর ট্রেনে চড়া কপালে জুটবে না।

একটি টিকেট যেন সোনার হরিণ। কাউন্টারে কর্তব্যরতদের কাজের গতির বর্ণনা দিয়ে তাদের ছোট করতে চাই না। এখন যে টিকেট ১ ঘন্টার পাওয়া সম্ভব নাম প্রিন্ট করতে গেলে তা ৩ঘন্টা লাগবে তাতে কোন সন্দেহ নাই। যে দেশের প্রধান টিকেট কাউন্টারের বুথ নম্বর খালি চোখে দেখা যায় না ও কোনেো বুথে কোনো গন্তব্যের টিকেট বিক্রি হয় তার স্পস্ট বর্ণনা নেই। যে দেশের ট্রেনে যাত্রীর বৃহৎ অংশ নিজেদের সিট, বগি এসব খুজে পায় না সেখানে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে এমন সিদ্ধান্ত নেয়াটা কি ঠিক হয়েছে?

কর্তৃপক্ষ যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার সমাধান তো তাদের সামনেই রয়েছে। যেমন টিকেট কালোবাজারী। অথচ যারা কালোবাজারীর সাথে জড়িত তারা সংশ্লিষ্ট (মাননীয় মন্ত্রীমহোদয়ের ভাষায় কিছু অসাধু কর্মচারী) ব্যাক্তিদের অতি চেনা লোক বটে। মাননীয় রেলমন্ত্রী কি কখনো লাইনে দাড়িয়ে টিকেট কেটে বাস্তব অভিজ্ঞা নিয়েছেন? নিশ্চয় রেল কর্মকর্তারা কাউন্টারের প্রকৃত অবস্থা মাননীয় রেলমন্ত্রী মহোদয়কে বুঝতে দেন না। বুঝলে হয়ত তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতেন না।

আমার একটা দুঃখ- এমন একটি সিদ্ধান্ত যে মিটিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে সে মিটিংয়ে কি এজন সদস্যও এ বিষয়ে চিন্তা করেনি?

-সাইফুল ইসলাম, ফেসবুক ইউজার