ঠান্ডা ভাতকে কেন্দ্র করে দুই সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যা

আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার : মিরপুরে দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার ঘটনায় গৃহকর্তা মো. শামীম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। শামীম জানান, মঙ্গলবার ঠান্ডা ভাত খেতে দেয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল তার। এরপর তিনি বাড়ির বাইরে যান।

মঙ্গলবার মিরপুরের দারুস সালাম থানার দিয়াবাড়ির ২৯/১ নম্বর বাড়ি থেকে দুই শিশু সন্তান শামিমা ও আবদুল্লাহর গলাকাটা এবং মা অনিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় শুরু থেকেই পুলিশ ধারণা করে আসছিল দুই সন্তানকে খুন করার পর আত্মহত্যা করেছেন তার মা।

ওই ঘর থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। এটি আনিকার হাতের লেখা বলেই ধারণা করছে পুলিশ। তিনি এই চিরকুটে লিখে গেছেন, তাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন।

ওই চিরকুটে স্বামীর উদ্দেশে আনিকা লিখেন, ‘শামীম তুমি শুধরালে না। তাই আমরা চলে গেলাম।’ একই চিরকুটে নিজের মায়ের উদ্দেশে আনিকা লিখেন, ‘মা, আমি ওদের নিজ হাতে খাইয়েছি, নিজ হাতে মানুষ করেছি। আবার নিজ হাতেই মেরে ফেললাম।’

তিনটি মরদেহ উদ্ধারের পর সেগুলো আনা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আজ এগুলোর ময়নাতদন্ত হবে।

শামীম হোসেনের সঙ্গে আনিকার বিয়ে হয় সাত থেকে আট বছর আগে। যে বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটিতে তারা উঠেন ২০১৫ সালের জুলাই মাসে। মাসে ভাড়া দুই হাজার তিনশ টাকা।

অভাবের সংসার ছিল শামীম-আনিকার। সাত মাসের বাড়িভাড়া ১৫ হাজার আটশ টাকা বকেয়া রয়েছে।

স্থানীয় একটি সেলুনে চাকরি করতেন শামীম। সেখান থেকে দিনে আয় হয় পাঁচশ টাকার মত। আর প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা পরিশোধ করতে হতো। বাকি টাকায় সংসার চালানো বেশ কষ্টসাধ্য ছিল।

মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না শামীম হোসেন। পরে রাতে তাকে আটক করে পুলিশ।

দারুসসালাম থানার উপপরিদর্শক নওশের আলী বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, শামীম হোসেনের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার ভাবড়াশুড় গ্রামে। অন্যদিকে নিহত অনিকার বাড়ি নওগাঁ জেলার মহাদেবপুরে। তাদের স্বজনদেরকে খবর দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা ঢাকায় আসতে শুরু করেছে। অনিকার মা এলে এ ঘটনায় মামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘শামীম আমাদেরকে বলেছেন, তিনি স্থানীয় একটি সেলুনে নরসুন্দরের কাজ করেন। গতকাল সকালে সে সেলুনে যাওয়া সময়ে অনিকা তাকে বাসি ভাত গরম করে এবং একটি ডিম ভেজে দেয়। কিন্তু শামীম ঠান্ডা ভাত খেতে না চাওয়ায় তার সঙ্গে অনিকার বাকবিতণ্ডা হয়।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আরও তদন্ত ও অনুসন্ধানের পর বিস্তারিত জানা যাবে। তবে আপাতত মনে হচ্ছে, আগে থেকেই মান অভিমান ছিল। এরপর ওই ঝগড়ার জেরেই হয়ত অনিকা এই কাজ করতে পারে।