তাঁতী লীগের জাতীয় সম্মেলন রবিবার

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ ১৩ বছর পর আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তাঁতী লীগের জাতীয় সম্মেলন। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার। জাতীয় সম্মেলনে নতুন কমিটির নেতৃত্ব পেতে ‘তাঁতী লীগ সমন্বয় পরিষদ’ ও ‘জয়বাংলা পরিষদ’ নামে দুটি প্যানেল তৎপরতা চালাচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবেও দৌড়ঝাঁপ করছেন পদপ্রত্যাশী অনেক নেতা।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে তাঁতী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান সবচেয়ে দুর্বল বলে মনে করেন দলটির নেতারা। তারা জানান, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের উপস্থিতি দেখা গেলেও তাঁতী লীগের নেতাকর্মীদের সে রকমভাবে দেখা যায় না কখনো।

সেই দুর্বল সংগঠনের নেতৃত্ব পেতে প্যানেল ঘোষণা দিয়ে রীতিমতো লড়াইয়ে নেমেছেন নেতারা। সংবাদ সম্মেলন করে প্যানেল পরিচিতিও হয়েছে তাদের। প্রচারে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ উঠছে কারো কারো বিরুদ্ধে।

সাধারণত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিলেই নাম প্রস্তাব ও সমর্থনের মধ্য দিয়ে গঠিত হয় নতুন কমিটি। কখনো কখনো হয়তো একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট নেয়া হয় কাউন্সিলরদের। কিন্তু সম্মেলনের আগে প্যানেল ঘোষণার ঘটনা এবারই প্রথম ঘটল।

১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাঁতী লীগের সঙ্গে যুক্ত আছেন বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক এনাজুর রহমান। এবারের সম্মেলনে সভাপতি পদপ্রার্থীদের মধ্যে তিনিও একজন। তবে কোনো প্যানেলে নয়। প্যানেল ঘোষণার প্রয়োজনও দেখছেন না তিনি। ১৩ বছর ধরে নেতৃত্ব দেয়া এই আহ্বায়ক বলেন, ‘এখানে প্যানেল ঘোষণা করার কোনো দরকার নেই। আমাদের নেত্রীই বিষয়টি ঠিক করবেন।’

প্রতিষ্ঠার সময় তাঁতী লীগের নাম ছিল পাকিস্তান তাঁতী সমিতি। স্বাধীনতার পর নাম হয় বাংলাদেশ তাঁতী সমিতি। পরে ২০০৪ সালে তাঁতী লীগ হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। এই ১৩ বছর এটি পরিচালিত হয়েছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। আসছে সম্মেলনে প্রথমবারের মতো নেতৃত্ব নির্বাচন হবে তাঁতী লীগের।

বর্তমান আহ্বায়ক এনাজুর রহমান ছাড়াও তাঁতী লীগের সভাপতি হতে চাইছেন আরো কয়েকজন। তাদের মধ্যে আছেন এশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান হারুন-উর রশীদ। সংগঠনটির সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়ার পর তার তৎপরতা বেড়ে যায়। সভাপতি পদপ্রত্যাশী অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সাধনা দাশগুপ্তা ও কামরুল ইসলাম বিটু।

আর সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে জোর লবিং করছেন ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী, মাহবুবুর রহমান খাঁন ওরফে খান মাহবুব ও মোশাররফ হোসেন।

তাদের মধ্যে হারুন-অর রশীদ ও মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে ঘোষিত হয়েছে তাতী লীগ সমন্বয় পরিষদ। অন্যদিকে জয়বাংলা পরিষদের নেতৃত্বে রয়েছেন সভাপতি প্রার্থী কামরুল ইসলাম বিটু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাহবুবুর রহমান খান।

গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্যানেল ঘোষণা করে তাঁতী লীগ সমন্বয় পরিষদ। আওয়ামী লীগের কোনো সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচিত হতে এভাবে প্যানেল ঘোষণা করতে দেখা যায়নি।

প্যানেল ঘোষণার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ বলেন, ‘নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে আমরা প্যানেল ঘোষণা করেছি।’ সংবাদ সম্মেলনে তাঁতি লীগের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে জয় বাংলা পরিষদের প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী খান মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে বারবার দল বদলাবদলির অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খান মাহবুব ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে রূপগঞ্জের সোনালী পেপার মিলের সিবিএ সভাপতি মনোনীত হন। এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০২ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তারাবো পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০৯ সালের ২৩ আগস্ট তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমুর আলম খন্দকার স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলার তারাবো পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মনোনীত করা হয়। ওই পদ থেকে তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি। ওই চিঠিটিও এখন তাঁতী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে হাতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার নামে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল।’

তাঁতী লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘনিয়ে আসায় পদ পেতে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন সহযোগী সংগঠনটির নেতারা।

তারা বলছেন, যোগ্য ও সৎ ব্যক্তি নেতৃত্বে আসবে বলে তাদের প্রত্যাশা। রাতারাতি দল পাল্টানো কোনো হাইব্রিড নেতাকে নেতৃত্বে দেখতে চান না তারা। এ বিষয়ে তারা আওয়ামী লীগের সভাপতির হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এনাজুর রহমান বলেন, সম্মেলন উপলক্ষে তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিপুল নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।