নিজের আশ্রয়ে গড়ে ওঠা বিশ্বনন্দিত শেখ হাসিনা || ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার

শেখ হাসিনা

লক্ষ্যে অবিচল, কর্মে দৃঢ়, রাজনৈতিকভাবে কৌশলী, পিতার মতোই মহৎ হৃদয়ের অধিকারী, মেধাবী, সরলপ্রাণ, উদার আর দশটি বাঙালী নারীর মতোই সংসারি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। পরিচিত এমনকি অপরিচিতজনের বিয়োগেও সমভাবে ব্যথিত হন তিনি। শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে লক্ষ্য অর্জনে কিভাবে সফলকাম হতে হয় তার বিশ্বনন্দিত উদাহরণ তিনি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মতো মহৎ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পিতাকে হারিয়ে তিনি যখন জনগণের নন্দিত সম্রাজ্ঞীর আসন থেকে দুর্বৃত্তের রোষানলে পড়ে একেবারে দিশেহারা, অসহায় মানুষে পরিণত হলেন তখন নিজেই তার আশ্রয়দাতা হলেন। তিনি ক্রমেই শক্তি সঞ্চয় করে পিতার আদর্শে উজ্জীবিত মহীয়সী নারীর দায়িত্ব নিলেন। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারী, আদর্শহীন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সমস্ত অপকৌশল এবং হীনচক্রান্তকে পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাকে পুনরুদ্ধার করেন।

এ কাজে তিনি একান্তই পিতৃ প্রদত্ত নিজস্ব গুণাবলী দিয়ে সংগ্রামের বিভিন্ন বাঁকে অবস্থার এবং সময়ের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ লাভ করে নিজেকে শাণিত করেন। ত্রিশ লাখ শহীদের স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি বঙ্গবন্ধুর ঔদার্য, নিজের দৃঢ়তা ও মেধাকে কাজে লাগিয়েছেন। তিনি ‘এমডিজি-২০২০’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, গড় আয়ু বেড়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গড় আয়ু ছিল ৩৯ বছর, বর্তমানে তা হয়েছে প্রায় ৭০ বছর। বর্তমানে ভারতের মানুষের গড় আয়ু ৬৬ বছর আর পাকিস্তানের ৬৫ বছর। গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করেছেন। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আরও উন্নয়নের জন্য ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জাতীয় সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাতের কয়েকটি উন্নয়নের বিবরণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

পুষ্টিমান উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশে জাতীয় পুষ্টিনীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা কর্তৃক চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত ‘রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৫’ এবং ‘চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৫’ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সদয় অনুমোদনের পর গত ১২ মে ২০১৬ তারিখে ‘রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৬’ এবং ‘চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৬’ হিসেবে গেজেট জারি করা হয়েছে।

নিপা ভাইরাস, মার্স ভাইরাস প্রতিরোধে জরুরীভিত্তিতে করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। মার্স ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গনিরোধ নিশ্চিতকরণসহ উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদানের জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বিশেষ ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। এ রোগে আক্রমণের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের জরুরীভিত্তিতে শনাক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ, কোয়ারেন্টাইনের (সঙ্গরোধ) পাশাপাশি ল্যাবরেটরি পরীক্ষা শক্তিশালীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহের অসুস্থ রোগীদের জরুরীভাবে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে দেশে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালসমূহে বিতরণের লক্ষ্যে ৫৪টি এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মোবাইল ক্যাম্প, অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ, বিভিন্ন পর্যায়ের সুপারভিশন ইত্যাদির মাধ্যমে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাদান নিশ্চিত করা হয়েছে। বিনামূল্যে সরকারী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডায়াগনস্টিক সেবা ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী কীটনাশকমুক্ত মশারি বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। ম্যালেরিয়ার ব্যাপক বৃদ্ধি রোধকল্পে ম্যালেরিয়াপ্রবণ ১৩ জেলায় তাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে এবং কীটনাশক ছিটানো হয়েছে। ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ২০১৫ সালে ম্যালেরিয়া রোধকল্পে সর্বদা ‘র‌্যাপিড রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। দেশের তিন পার্বত্য জেলায় প্রাধিকার ভিত্তিতে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও জুম চাষীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম চলমান আছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় ফাইলেরিয়া শনাক্তকরণ জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ফাইলেরিয়া অধ্যুষিত জেলাগুলোতে গণওষুধ সেবন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে ক্ষুদে ডাক্তার কর্তৃক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদে ডাক্তারদের মাধ্যমে কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ উদযাপন করা হয়েছে।

পোলিও নির্মূল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মোতাবেক ট্রাইভ্যালেন্ট পোলিও ভ্যাকসিনের পরিবর্তে বাইভ্যালেন্ট পোলিও ভ্যাকসিন রুটিন ইপিআই কার্যক্রমে সংযোজন করা হয়।

সরকারী ১০টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, তিনটি বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও একটি বেসরকারী হাসপাতালে অবসটেট্রিক ফিস্টুলা কার্যক্রম চলমান আছে এবং পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করা হবে।

উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য পুত্র ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের একক চিন্তাপ্রসূত উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড জননেত্রী শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় সারাদেশে আর্থ-সামাজিক ও শিক্ষা বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক কল্যাণধর্মী সুযোগ বয়ে এনেছে, যা ইতোমধ্যে শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেনিয়াতে বাংলাদেশের আইটি খাতের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল থেকে শুরু করে কমিউনিটি ক্লিনিক এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মী পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট কম্পিউটার প্রদান এবং ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৩ হাজারের অধিক সকল চালু কমিউনিটি ক্লিনিকে একটি করে কম্পিউটার এবং প্রায় ২৪ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীকে ট্যাবলেট কম্পিউটারসহ ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে। এসব সুবিধার ফলে সকল প্রতিষ্ঠান থেকে এবং ফিল্ড লেভেল থেকে অনলাইন ডাটাবেজে হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং স্বয়ংক্রিয় প্রতিবেদন তৈরি, টেলিমেডিসিন সেবা প্রদান, ভিডিও কনফারেন্সি, স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান ও ই-লার্নিংসহ তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়েছে। ৫৯টি হাসপাতালে উন্নতমানের টেলিমেডিসিন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আরও ১০টি হাসপাতালে কার্যক্রমটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ শেষ পর্যায়ে।

দেশের সকল সরকারী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সেবার মান সম্পর্কে জনগণের অভিযোগ ও পরামর্শ জানা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসএমএসভিত্তিক চমৎকার ও উদ্ভাবনীমূলক অভিযোগ-পরামর্শ জানানোর ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। প্রতিদিন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগগুলো দেখা হয় এবং সমাধান দেয়া হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ সকল জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল এবং ৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ৩৬৩টি প্রতিষ্ঠানে আঙ্গুলের ছাপ শনাক্তকারী রিমোট ইলেক্ট্রনিক অফিস এটেনডেন্স সিস্টেম চালু করা হয়েছে। নাগরিকরা যাতে সহজে বিভিন্ন তথ্য পান সেজন্য ওয়েবসাইট, সামাজিক মাধ্যম, ব্লগ প্রভৃতির মাধ্যমে সকল তথ্য তাৎক্ষণিক প্রচার করা হয়। প্রতিটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান অনলাইন ইন্টারএ্যাকটিভ লোকাল হেলথ বুলিটিন প্রকাশ করে।

সরকারী-বেসরকারী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ইলেক্ট্রনিক তথ্যভান্ডার, দেশভিত্তিক স্বাস্থ্য মানবসম্পদ তথ্যভান্ডার, জিও-লোকেশন তথ্যভান্ডার, হাসপাতাল অটোমেশনের জন্য ওপেন এমআরই সফটওয়্যার চালু, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য ডিএইচআইএস সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য তথ্য নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে।

জাতিসংঘের কোইয়া(COIA) নামক একটি উদ্যোগের আওতায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আর্থিক সহায়তায় সরকারী-বেসরকারী, এনজিও-দাতা সংস্থার সমন্বিত অংশগ্রহণে অনলাইনে প্রতিটি কমিউনিটির প্রসূতি ও অনুর্ধ-৫ শিশুর নিবন্ধন ও ট্রাকিং করার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যা এমডিজি-৪ ও ৫ অগ্রগতির পরিমাপ ও উন্নয়নে ব্যাপকভাবে সহায়ক হবে। ইউএসএআইডি এবং ডি. নেট নামক একটি স্থানীয় সংস্থার সহায়তায় আপনজন নামে মা ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নমূলক মোবাইল ভয়েস ও এসএমএসভিত্তিক পরামর্শ সেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএস বিভাগে সর্বাধুনিক ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং খুলনায় এর একটি রিমোট ডিজেস্টার রিকভারি সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য উপাত্তভিত্তিক একটি ইলেক্ট্রনিক তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার জন্য গ্রামপর্যায়ে বসবাসকারী সকল নাগরিকের তথ্য সংবলিত ডাটাবেজ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন এই ডাটাবেজভিত্তিক লাইফ টাইম শেয়ার পোর্টেবল সিটিজেনস ইলেক্ট্রনিক হেলথ রেকর্ড তৈরির কাজ চলছে। সিভিল রেজিস্ট্রেশন এ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস নামে একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আওতায় বর্তমানে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ইলেকশন কমিশন ভোটার ডাটাবেজ, স্বাস্থ্য ডাটাবেজ এবং নির্মীয়মাণ দরিদ্র ডাটাবেজসমূহ সমন্বিত করে আঙ্গুলের ছাপ ও রেটিনার ছবিযুক্ত ন্যাশনাল ইলেক্ট্রনিক পপুলেশন রেজিষ্ট্রার তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

জাতীয় ই-হেলথ পলিসি এবং ই-হেলথ স্ট্র্যাটেজি তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ই-হেলথ কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ কর্তৃক ২০১১ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ডিজিটাল হেলথ ফর ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক সাউথ-সাউথ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে হেলথ কার্যক্রমসমূহ।

এসব কার্যক্রমে বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, জিআইজেড, ইউএসএইড, আইসিডিডিআরবি, ডিএফআইডি, বিশ্বব্যাংক, এমএসএইচ, ইউএন-এসকাফ, ইউএনএফপিএ, জনসহপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়, জাইকা, প্যান ইন্টারন্যাশনাল, সেভ দ্য চিলড্রেন, ব্র্যাক প্রভৃতি সংস্থা সাহায্য করছে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের তথ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে EMOC-এর রেকর্ডিং এবং রিপোর্টিং ফরমেট সংশোধন ও পরিমার্জনপূর্বক ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরে WI-FI চালু করা হয়েছে। WI-FI স্থাপনের কারণে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের ই-ফাইলিং কার্যক্রম শুরু করা সহজতর হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ছয় হাজার চিকিৎসক এবং দশ হাজার নার্স নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মাননীয় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারবর্গের জন্য বিনামূল্যে দুটি কেবিন সংরক্ষণসহ সকল মাইনর অপারেশন, রুটিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সকল প্রকার মেডিক্যাল সার্জিক্যাল চিকিৎসাসমূহ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নিউরো ডিজঅর্ডার ও চাইল্ড সাইকোলজির ওপর উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বাংলাদেশে অবহেলিত এবং চিকিৎসাবঞ্চিত অটিজম শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা ও অন্যান্য আনন্দদায়ক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সাধারণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত করে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাস্থ্য খাতে এক মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার মধ্যেও। এ সকল সাফল্যের মাঝে তার সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো নিজে দায়িত্ব নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দুর্বৃত্তদের, বিশেষ করে নিজ দল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অন্যান্য দলের বর্ণচোরা সুবিধাবাদীদের সকল ষড়যন্ত্র ও হুমকি মোকাবেলা করে জাতির জনকের দুর্বৃত্ত, দাম্ভিক হত্যাকারীদের বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে সক্ষম হয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে তথাকথিত শক্তিধর ব্যক্তিদের পরাজিত করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে সক্ষম হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানোর এর চেয়ে বড় কোন পথ আছে বলে আমার জানা নেই।

তিনি সংগ্রামী, তিনি যোদ্ধা, তিনি দার্শনিক, তিনি শিল্পী, যিনি পিতার অবর্তমানে একই ক্যানভাসে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে হাজার বছরের বঞ্চিত বাংলার কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, ছাত্র, শিক্ষক, কবি, শিল্পী-সাহিত্যিকের স্বপ্ন এবং দর্শনকে নিজস্ব মেধা এবং মনন দিয়ে নিপুণভাবে নিরন্তর এঁকে চলেছেন। ১৬ কোটি বাঙালীর আশার প্রতীক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘজীবী হোন-দেশ ও জাতির কল্যাণে তার মেধা ও দৃঢ়তা বিশ্বব্যাপী উজ্জ্বল ব্যতিক্রমী উদাহরণ।

লেখক : অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সভাপতি, প্রগ্রেসিভ ডক্টরস ইউনিয়ন(পিডিইউ)