ফাদার অপহরণের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতার ৫ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

রেজাউল সরকার (আঁধার) : কাকরাইল গির্জার ফাদারকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি টঙ্গী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামছ কবির সৌরভকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টঙ্গী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাসানুজ্জামান মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার সৌরভকে গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
পরে ওই আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন শুনানী শেষে ৮ অক্টোবর রোববার রিমান্ড শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
বিষটি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টঙ্গী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাসানুজ্জামান জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আসামি সৌরভকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। রিমান্ডে নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সৌরভের দেয়া তথ্য অনুযায়ী অপহরণের ঘটনায় জড়িত তার অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৌরভ তার সহযোগী হিসেবে যাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে তাদেরকেও এই মামলায় এজাহার নামীয় আসামী করা হয়েছে। এই আসামিরা হল, জয়নাল (২৭), জেমস (২৫) ও হাসান (২৬)। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সৌরভ সহযোগীদের পুরো ঠিকানা প্রকাশ করেনি।
এ ব্যাপারে গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম দীপ জানান, সৌরভকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করার জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। একইসাথে প্রকৃত বিষয়টি জানার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ঢাকার কাকরাইলের গির্জার ফাদার শিশির নাতালে গ্রেগরিকে অপহরণের অভিযোগে টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামস কবির সৌরভকে সোমবার রাতে টঙ্গীর পাগাড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় অপরিচিত একটি মোবাইল থেকে ফাদার শিশির নাতালে গ্রেগরিকে ফোন করে বলা  হয়, ‘আপনার বোন সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন, তিনি এখন টঙ্গীর পাগাড় ফকির মার্কেটে আছেন। তার অবস্থা খুব খারাব, আপনি দ্রুত আসুন।’ এই ফোন পেয়ে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে দ্রুত টঙ্গীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি বিকেল ৩টায় ফকির মার্কেটে ফোনদাতার কাছে পৌঁছান এবং তার বোনের অবস্থান জানতে চান। এসময় তাকে বোনের কাছে নেওয়ার কথা বলে ফকির মার্কেটের কাছে একটি কক্ষে নেয়া হয়। সেখানে আগে থেকে আরো ৪ জন অপেক্ষা করছিল। এসময় তাকে ওই কক্ষে আটকে রেখে অপহরণকারীরা তার মোটরসাইকেল, একটি আইফোন, হাত ঘরি ও পকেট হাতিয়ে ১৩শ’ টাকা লুটে নেয় এবং ভেতর দিক থেকে তাকে কক্ষে আটকে রেখে আরো ৩ লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবি করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টায় তিনি কৌশলে রুম থেকে বেরিয়ে ডাক চিৎকার শুরু করেন। এসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অপহরণকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় সৌরভকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ফাদার শিশির নাতালে গ্রেগরি বাদি হয়ে ৪ জনকে আসামি করে টঙ্গী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।