ফুটন্ত মুকুলের সুগন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে শ্রীপুর

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরে লিচু চাষে ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে লিচু চাষিদের । মুকুলে ছেয়ে গেছে পুরো লিচু গাছ ।লিচু গাছের শাখায় শাখায় ব্যাপকভাবে মুকুল ফোটায় আশায় বুক বেঁধেছেন লিচু চাষিরা। ফুটন্ত মুকুল থেকে বের হওয়া সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে লিচু বাগান ও আশপাশ এলাকায়। যা মুগ্ধু করেছে পথচারি ও আশপাশে বসবাসরত এলাবাসিকেও।

সরেজমিনে শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় ,লিচুচাষিরা বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন ।মুকুলে ছেয়ে আছে গাছ ।ফুটন্ত মুকুলে দানা আসার পূর্বেই চাষিরা সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন  করেছেন ।বসন্তের ঋতুর আগমনের সাথে সাথে প্রতি বছর বৃষ্টির দেখা মিললেও  এ বছর এখনো বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় লিচু গাছের গোড়ায় পানি সরবারহে ব্যস্ত চাষিরা । সারাদিন প্রচন্ড রোদের মাঝে ফুটন্ত মুকুলের সবরকমের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চাষিরা প্রয়োজনীয় বালাইনাশক  প্রয়োগ করছেন ।ক্রমান্বয়ে লিচুর ফলন বাড়তে থাকায় শ্রীপুরে এবারও লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে ।মুকুলে ছেয়ে আছে পুরো লিচু গাছ ও স্বাদে ভরপুর মধু ফল লিচু যার কদর  পুরো দেশে ।

দেশের চাহিদা মিটিয়ে শ্রীপুরের লিচু এখন বিদেশেও রফতানি করা হয় ।স্বল্প সময়ে অল্প খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় শ্রীপুরে লিচুর চাষ দিন দিন বেড়েই চলছে । ।শ্রীপুরের টেপিরবাড়ী ,কেওয়া পশ্চিম খন্ড সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফাঁকা পড়ে থাকা পরিত্যক্ত অনাবাদি জমিতে এখন লিচুর চারা  রোপন করেছেন এলাকাবাসী । শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসেব মতে,  এ বছর   শ্রীপুর উপজেলার ৭৩0 হেক্টর জমিতে  লিচু চাষ করা হয়েছে। উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়ন ও শ্রীপুর পৌরসভায় সবচেয়ে বেশি লিচুর আবাদ হয়ে থাকে । শ্রীপুরে প্রতি হেক্টরে ৫.৩ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয় ।

টেপিরবাড়ী গ্রামের (আনসার টেপিরবাড়ী) লিচু চাষি কাজল মৃধা জানান, তার ১২০ টি লিচু গাছ রয়েছে ।গত বছর তিনি প্রায় ১০ লক্ষ টাকার লিচু বিক্রি করেন ।  তিনি আরো বলেন, কৃষি বিভাগের লোকজন লিচু উৎপাদনের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান দিতে পারলে লিচুতে আরো  বেশি লাভবান হওয়া যেত।

শ্রীপুর উপজেলার ৪ নং তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের টেপিরবাড়ী আনসার এলাকার আইন উদ্দিন সরদারের ছেলে  শিক্ষক আমির হোসেন সরদার জানান, ,লিচু গাছে সদ্য আসা মুকুল ফুটতে শুরু করেছে ।ফুটন্ত মুকুলের সুগন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে লিচু বাগান ও আশপাশ এলাকা ।তিনি বলেন, মাস খানেক পূর্ব থেকেই বাগানের পরিচর্যা করতে শুরু করেছি । ফল না উঠা পর্যন্ত গাছের পরিচর্যা করে যেতে হবে । বর্তমানে ফুটন্ত মুকুল ধরে রাখতে সঠিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা করতে কখন কোন ধরণের বালাইনাশক  প্রয়োগ করতে হবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ।তবে আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে এ বছর প্রচুর পরিমানের  ফল পাওয়ার আশা করছেন এই চাষি ।

একই গ্রামের লিচু চাষি নজরূল মাস্টার বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন,  তিনি সাত থেকে আট বিঘা জমিতে লিচু চাষ করেছেন ।বার বছর ধরে তিনি লিচু চাষ করেন । গেল বছর তিনি ৩ লক্ষ টাকা লিচু বিক্রি করেন ।তার লিচু বাগানে পাট্রি লিচু বেশি ।

অপর দিকে আনসার টেপিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, তার ছোট একটি লিচু বাগান রয়েছে । বছরে তিনি হাজার পঞ্চাশ টাকার লিচু বিক্রি করেন ।

টেপির বাড়ী গ্রামের মৃত:আব্দুস সুবানের ছেলে রশিদ মেম্বার প্রতি বছর প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার লিচু বিক্রি করেন ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ এস এম মূয়ীদুল হাসান বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাগান মালিক ও চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন । সার ও ওষুধের মাত্রা সময় নির্ধারণ  এবং পরিবেশ না বুঝে ব্যবহার করার কারণে অনেক চাষি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাচ্ছেন না । তিনি আরও বলেন, প্রায় ২৫০ জন চাষিকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।