বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে বিশেষ নজরদারীতেই বড় হচ্ছে বন মাধুরী

বন মাধুরী

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: “বন মাধুরী” পার্কের কর্মকর্তাদের সারাদিন ব্যস্ত রাখছে। মায়ের সাথে সারাদিন ব্যস্ত থাকে খেলাধুলা আর দুষ্টমিতে। বেষ্টনীর বিভিন্ন জায়গা মায়ের সাথে ঘুঁড়ে বেড়াতে পছন্দ করে সে। মায়ের চোখ আড়াল হলেই বন মাধুরীকে খুঁজে আনতে পাগল বনে যায় মা মুক্তিরাণী। বন মাধুরীকে কাছে পেলেই শান্ত হন মা মুক্তিরাণী। মা মুক্তি রাণী যত চিন্তা সব বন মাধুরীকে নিয়ে। কারণ, কাউকে বিশ্বাস করেন না মুক্তিরাণী, এমনকি বনমাধুরীর বাবা বাহাদুরকেও। বাবার স্নেহের পরশের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন মা মুক্তিরাণী। বন মাধুরীকে নিয়ে হাতী বেষ্টনীর মাহুতসহ পার্কের সকল কর্মকর্তাদের এমনই আনন্দময় ব্যস্ততা যেন বেড়েই যাচ্ছে।

সাড়ে তিন মাস বয়সী বনমাধুরীকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের হাতীর বেষ্টনীতে বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে এবং স্বাভাবিক পরিবেশে বড় হচ্ছে। আর ৯মাস পরেই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বন মাধুরীকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক আনিছুর রহমান বলেন, আবদ্ধ পরিবেশে দেশে হাতির বাচ্চা প্রসব এটাই প্রথম। হাতি গর্ভধারণের ১৮ থেকে ২২মাসের মাথা বাচ্চা দেয়। মেয়ে বাচ্চা প্রসব করলে সাধারণত ১৮ মাস থেকে ২০মাস ও পুরুষ বাচ্চার ক্ষেত্রে ২২মাস পর্যন্ত সময় নিয়ে থাকে। বাচ্চা প্রসবের পর মা হাতি হিংস্র প্রকৃতির হয়ে ওঠে। জন্মের পর বাচ্চা ও মা’কে বিশেষ কারণে দর্শণার্থীদের কাছে থেকে দূরে রাখা হয়েছে। বাচ্চাটির বয়স অন্তত এক বছর হলে দর্শণাথীদের জন্য বন মাধুরীকে উন্মুক্ত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, হাতি শাবক তিন থেকে চার বছর বয়স থেকে স্বাভাবিক পরিবেশের খাবার খাওয়া শুরু করে। সাড়ে তিন মাস বয়সী বনমাধুরী আপাতত মায়ের দুধই পান করছে। তবে তাঁর মা মুক্তিরাণীর জন্য মিষ্টি কুমড়া, কলাগাছ, গাজর, আখ, ছোলা, গমের ভুষি ও চাল গুড় দিয়ে তৈরী বিশেষ খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। এতে দৈনিক ঘাসসহ আড়াই’শ থেকে তিনশ কেজি খাবার খাচ্ছে মুক্তি রাণী। যেহেতু, বনমাধুরী এখনো স্বাভাবিক খাবার না খেয়ে মায়ের দুধ খাচ্ছে তাই, তাঁর মা মুক্তিরাণী যাতে অপুষ্টিতে না ভোগে সেদিক বিবেচনা করে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন জানান, ২০১৩সালে মোট ৬টি হাতী সাফারি পার্কে আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি পুরুষ ও চারটি মাদী হাতী। ২০১৭ সালে ২৭আগষ্ট মুক্তিরাণীর কোল জুড়ে আসে বন মাধুরী। অবশ্য বন মাধুরী নামটি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইশতিয়াক আহমেদের দেয়া। বনমাধুরীসহ বর্তমানে সাফারী পার্কে মোট হাতী সংখ্যা ৭টি। তবে পরিবেশ অনুকূলে থাকলে আগামীতে হাতী পরিবারের সদস্য সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।