বাংলাদেশ দুই লাখ টন চাল রফতানি করবে

স্টাফ রিপোর্টার : এক সময়ের খাদ্য সঙ্কটে থাকা আমদানি নির্ভর বাংলাদেশ এবার চাল রফতানিতে মনোযোগী হয়ে উঠেছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর এবার সংকটে থাকা ও আমদানি নির্ভর বন্ধু রাষ্ট্রে কম দামে দুই লাখ টন মোটা চাল রফতানি করতে চায় বাংলাদেশ।

দেশে পর্যাপ্ত চাল মজুদ থাকায় এ রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য আপদকালীন মজুদ রেখে উদ্বৃত্ত চাল রফতানি করা হবে।

এরইমধ্যে চাল রফতানির জন্য কয়েকটি কোম্পানিকে অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। আরো কিছু কোম্পানি চাল রফতানির আগ্রহ দেখিয়েছে। তাদেরও অনুমোদন দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র।

অন্যদিকে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, আমরা দুই লাখ টন চাল রফতানি করতে চাই। এরইমধ্যে বাংলাদেশস্থ ইরাকের রাষ্ট্রদূত আমার সঙ্গে দেখা করে তার দেশের চাল আমদানির আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। আরো কিছু দেশও বাংলাদেশ থেকে চাল আমদানি করতে চায়।

তিনি জানান, মিসর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া, মরোক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশও বাংলাদেশ থেকে মোটা চাল আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মোটা চাল রফতানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে খাদ্য, কৃষি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মোটা চাল রফতানি পুরোপুরি উন্মুক্ত না করলেও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের ভিত্তিতে (কেস-টু-কেস) বাংলাদেশ থেকে মোটা চাল রফতানির অনুমোদন দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণলায়। বাংলাদেশের রফতানি নীতি অনুযায়ী, বেসরকারিভাবে মোটা চাল রফতানি নিষিদ্ধ।

ফলে চাল রফতানি করতে হলে ২০১৪ সালের ১৫ জুন জারি করা এসআরও (অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন) সংশোধনেরও প্রয়োজন হবে।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা আগ্রহী দেশগুলোকে বলেছি তাদের মোটা চাল দিতে পারবো। তবে সেজন্য নির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিতে হবে। এ প্রস্তাবনা পেলে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে কম দামেই তাদের চাল দেওয়ার চিন্তা করবো।

এর আগে চলতি বছর শ্রীলংকায় ৩০ হাজার মেট্রিকটন মোটা চাল রফতানি হয়েছিল। ভারতের ত্রিপুরায়ও ৮ হাজার মেট্রিক টন চাল রফতানি হয়েছে। এছাড়াও ভূমিকম্প পরবর্তী নেপালে ১০হাজার টন চাল খাদ্য সহায়তা হিসেবে পাঠানোর পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে প্রতিদিন চালের চাহিদা গড়ে ৯০ হাজার মেট্রিক টন। সে হিসেবে বছরে চালের চাহিদা দাঁড়ায় ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে দেশে চাল উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ১১ হাজার মেট্রিক টন। এ সময়ে দেশীয় চালের উদ্বৃত্ত ছিল ১৮ লাখ মেট্রিক টন। একই সময়ে দেশে চাল আমদানি হয়েছিল ১০ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন। আর ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে দেশে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন। এ বছর বোরোর যে ফলন হয়েছে তাতে লক্ষ্যমাত্রা ৩ কোটি ৮৭ লাখ মেট্রিকটনকেও ছাড়িয়েছে। এখন শুরু হয়েছে আমন মৌসুম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব রোর্ড এসব তথ্য জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে।

এ বিষয়ে বাদামতলি ও বাবু বাজার চাল আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, যেহেতু দেশে চালের যথেষ্ট মজুদ আছে এবং কৃষক পর্যায়ে ধানের দাম কম তাই সরকারের চাল রফতানির সিদ্ধান্তে বাজার চাঙ্গা হবে। এতে কৃষক, ব্যবসায়ী ও সর্বোপরি রাষ্ট্র লাভবান হবে।

এদিকে চলতি আমন মৌসুমে দেশের কৃষকের কাছ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরে চাল কিনবে সরকার। এ মৌসুমে ৩ লাখ মেট্রিক টন আমন চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারের খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে ৮ লাখ মেট্রিক টনের মতো। যেটা মজুদ আছে সেটা সন্তোষজনক। ২০১৫ সালে এ সময়ে মজুদ ছিলো ১৫ লাখ মেট্রিক টনের মতো। গত বছর সরকার ৩১ টাকা কেজি দরে ২ লাখ মেট্রিক টন চাল কিনেছিলো। এবার চাল উৎপাদনের খরচ বেশি পড়ায় কেজিপ্রতি বেশি দাম দিয়ে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের ১০টাকা দরে চাল বিতরণের জন্য ৭ লাখ মেট্রিক টন চাল লাগবে বলেও জানান তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী জানান, রফতানির বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে ইতোমধ্যে সরকারি উদ্যোগে খাদ্যশস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে গুণগত মানের পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই দেশগুলোতে চালের নমুনা পাঠানোর চিন্তা করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। দরদামে পোষালে আগামী বছরের শুরুতে বিশ্ববাজারে ২ লাখ টন মোটা চাল রফতানি করবে সরকার।