বিদায়ী ভাষণে অশ্রুসিক্ত ওবামা

ওবামা

চ্যানেল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দেয়া বিদায়ী ভাষণে বেশ কয়েকবার আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধান বারাক ওবামা। বিশেষ করে স্ত্রী মিশেল ওবামার কথা বলতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।

২০ হাজারের বেশি শ্রোতা সামনে বসে ওবামার বিদায়ী ভাষণ শোনেন। মার্কিন রাজনীতির ঐতিহ্য অনুযায়ী দেয়া এই বিদায়ী ভাষণে ওবামা মূলত তার আট বছরের মেয়াদে নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন। তার সঙ্গে থাকার জন্য তিনি দেশবাসী ও হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

অশ্রুসিক্ত ওবামা বলেন, ‘এবার ধন্যবাদ দেওয়ার পালা।’

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মসৃণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে বলে জানান ওবামা। ভাষণের প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই ছিল ওবামার চোখে জল। কিন্তু মুখে হাসি নিয়ে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে তুলে ধরেছেন তার আট বছরের খতিয়ান। বলেছেন, আট বছর আগে যেখানে ছিলাম সেখানেই আবার ফিরে যেতে চাই মিশেলকে নিয়ে।

স্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওবামা বলেন, মিশেল শুধুই আমার স্ত্রী ও সন্তানের মা নন। বরং আমার ভালো বন্ধূ।

ওবামার বড় মেয়ে মালিয়াকে এই সময়ে দেখা যায় মায়ের পাশে বসে অশ্রুসিক্ত নয়নে বাবার বিদায়ী ভাষণ শুনতে। হোয়াইট হাউজে থাকার সময় এদের প্রত্যেকের ‘ত্যাগের কথা’ আলাদা করে স্মরণ করেন ওবামা।

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট সব বিভাজনকে অতিক্রম করে পরস্পরের মতামতকে শ্রদ্ধা করা শিখতে যুক্তরাষ্ট্রবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের মনোযোগ দিতে হবে, সবার কথা শুনতে হবে।”

মঙ্গলবার রাতে শিকাগোতে ওবামার বিদায়ী ভাষণের সময় হাজার হাজার সমর্থক স্লোগান ধরেন- ‘আরও চার বছর, আরও চার বছর’। জবাবে ওবামা বলেন, “তা আমি পারি না।”

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রেসিডেন্ট থাকতে পারেন না। আর ওবামা প্রেসিডেন্টদের শান্তিপূর্ণ দায়িত্ব হস্তান্তরকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘হলমার্ক’ হিসেবে বর্ণনা করে।

তিনটি বিষয়কে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। এগুলো হল- অর্থনৈতিক বৈষম্য, জাতিগত বিভেদ এবং ‘অলীক কল্পনায় ডুবে থাকা’ সমাজের বিভিন্ন অংশ, যাদের মতামত সাধরণ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।