বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন কাপাসিয়া

আসাদুল্লাহ মাসুম: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটানা ৭২ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে  বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কাপাসিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র জানায়, ঝড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এলাকায় কর্মীরা কাজ করছে। শেষ হতে আরও সময় লাগবে।

সরেজমিনে গিয়ে লাইন মেরামতের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের কর্মে গাফিলতি লক্ষ্য করা গেছে। জনগণকে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করতে মোটেই আন্তরিক নন কাপাসিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ, অভিযোগ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের।

গ্রাহকরা বলছেন, কাপাসিয়া উপজেলায় অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না।  মাঝে মধ্যে আসে।

বিদ্যুৎ না থাকায় সমস্যায় পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। শিার্থীরা ঠিকমত লেখাপড়া করতে পারছে না। এইচএসসি ও সমমানের পরীার্থীদের সমস্যা বেশি। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে তারা লেখাপড়া ঠিকমত করতে পারছে না।

বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার ৫ লাখ মানুষ ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হাসপাতালে রোগীরা বেশি কষ্ট পাচ্ছে। এ ছাড়া কঠিন সমস্যায় পড়েছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ তারা।

উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যুৎ না থাকায় বিদুৎ চালিত যন্ত্রপাতি, কলকারখানা অচল হয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা। মোবাইল বন্ধ রয়েছে। চার্জ দিতে না পারায় যোগাযোগও করতে পারছেন না গ্রাহকরা।

টোক ইউনিয়নের কেন্দুয়াব গ্রামের মাছুম রানা জানান,  বিদ্যুৎ নেই। ফ্রিজে যেসব খাবার ছিল, তাও নষ্ট হয়ে গেছে। মোবাইল পার্শ্ববর্তী বীর উজলী বাজার থেকে  জেনারেটরের সাহায্যে চার্জ দিয়ে নিয়ে এসেছি। বিদ্যুৎ না আসার কারণে আমাদের খুব সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

কাপাসিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে সমালোচনার ঝড়। ফেসবুকে মো: জিয়া নামে একজন লিখেছেন, “বাংলাদেশের কোনো থানাতে যদি বিদ্যুতের সমস্যা হয়, সেটা হল কাপাসিয়া থানা। এখানে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন আছে বুঝা যায় না। এখানে নেতা-পেতা, জনপ্রতিনিধিরা কী ঘোড়ার ঘাস কাটে? বিদ্যুৎ নিয়ে যেন তাদের মাথা ব্যাথা নেই।”

কাপাসিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম সেলিনা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনকাপাসিয়া বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দিচ্ছে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা