বিয়ে করে ছাত্রলীগ করতে সমস্যা কোথায়?

প্রায়ই সময় দেখা যায়, ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠন করার সময় একজন আরেক জনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে বয়স, বিয়ে,চাকরি,ব্যবসা ইত্যাদি সম্পর্কে নীতিমালা আছে। ছাত্রলীগ করতে হলে বয়স ২৯ এর মধ্যে থাকতে হবে। বিয়ে,চাকরি,ব্যবসা এগুলো করা যাবেনা।

১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার সময় এত নিয়ম বেধে দেওয়া হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও ছাত্র অবস্থায় কম বয়সেই বিয়ে করেছিলেন।কিন্তু বর্তমান ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে ছাত্রলীগ করলে বয়স ২৯ হতে হবে। চাকরি,ব্যবসা করা যাবেনা এটাও ঠিক আছে। কিন্তু বাংলাদেশে পুরুষের বিয়ের বয়স ২১ এবং মেয়েদের ১৮। বিয়ের সময় হলে পারিবারিক কারনে হোক আর অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলতার কারনে হোক,বিভিন্ন পরিস্থিতির কারনে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। কিন্তু ছাত্রলীগ করতে এসে অনেক ত্যাগী ছাত্রনেতারা হয়তো ব্যক্তিগত/পারিবারিক প্রয়োজনে ২৯ বছরের আগে বিয়ে করতে হয়। ফলে সে সংগঠনের কাংখিত লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়ে।

ছাত্রলীগ শুধু ছেলেরা করেনা, মেয়েরাও করে। ফলে একটি মেয়ে কিভাবে ২৯ বছরের পরে বিয়ে করবে? শিক্ষার কোনো বয়স নেই। বিয়ে করে যদি ছাত্র থাকা যায়,পড়াশোনা করা যায়, তাহলে বিয়ে করে সংগঠনে সময় দিতে পারলে সমস্যা কোথায়? আর ছাত্রলীগ করতে গিয়ে ৯৯.৯৯% কর্মীই ২৯ বছর পার করে দুর্ভিসহ অন্ধকারের মাঝে একটু আলোর সন্ধান পেতে চায়, কিন্তু ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে যেভাবে ব্যবহার করা হয় সেভাবে আমাদের আর কেউ সহযোগীতা করেনা। তাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে ছাত্রলীগ করতে হলে আগামীতে গঠনতন্ত্রে সংশোধনে অন্তত বিয়ের বিষয়টা আরেকটু বিবেচনা করা উচিত। (ব্যক্তিগত মতামত)

শেখ জসিম উদ্দিন
উপ-আপ্যায়ন বিয়ষক সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ।