ভালুকায় জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে প্রায় তিনহাজার পরিবার পানিবন্ধি

ভালুকায় জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে প্রায় তিনহাজার পরিবার পানিবন্ধি

তমাল কান্তি সরকার: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের সিডস্টোর বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে পানি নিষ্কাশণের কালভার্ট ও ড্রেন বন্ধ করে দেয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে প্রায় তিনহাজার পরিবার পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীসহ ওই এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণ পানিবন্ধি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিগত বছর গুলোতে প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও বর্ষাকালে পানি বন্ধি অবস্থা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না এলাকাবাসী।

সরেজমিনে এলাকা ঘুরে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ি সিডষ্টোর বাজারের পূর্বপাশে প্রায় ৭/৮ শত বাসা-বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক বাসা-বাড়ি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে কিছুটা নিচু এলাকায়। পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়ক ও জনপথের উদ্যোগে মহাসড়কে কালভার্ট স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা কালভার্টের উভয় মুখ বন্ধ করে দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করে। এতে ওই মহল্লার প্রায় ৭/৮শতাধিক বাসা-বাড়ি জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরম দূর্ভোগের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া আসা বন্ধ হয়ে গেছে। গার্মেন্টস ও মিল-কারখানার শ্রমিকরা তাদের কর্মস্থলে যেতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছেন। পানি জমে নষ্ট হচ্ছে মৌসুমি ফল ও ফসল। শাক-সবজি পঁচে নষ্ট হচ্ছে। কাঁচা ঘর-বাড়ির দেয়াল ভেঙ্গে পড়ছে। অনেক বাড়ীর মালিক বাড়ী ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বাড়াটিয়ারাও চলে যাচ্ছে এসব এলাকা থেকে। চারদিকে টয়লেটের ময়লা পানি ছড়িয়ে রোগ-বালাইয়ের আশংকা বাড়াচ্ছে। এ সময় দেখা যায় কেউ কেউ বাঁশের সাঁকো তৈরী করে আবার কেউ হাঁটু-কোমর পানিতে ভিজে তাদের বাড়ীতে যাচ্ছেন। অনেকেই বিকল্প হিসেবে নৌকা ব্যবহারের চিন্তা করছেন।

এলাকার ভোক্তভোগী খলিলুর রহমান জানান, ওই এলাকার টিন কাদির (আ:কাদির),আলী হোসাইন, হাবি নেতা (মো: হাবিবুর রহমান) সহ কয়েকজন পানি যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ করায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

মেহেদী হাসান খান কাজল নামে ওই এলাকার বাসিন্দা জানান, আমার থাকার ঘর সহ পুরো বাড়ীতেই হাটু পানি আজ বেশ কয়েক দিন যাবৎ মানবেতর জীবন যাপন করছি। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া এক বৃদ্ধা (৫০) জানান গত ৩দিন যাবৎ তাদের নাওয়া-খাওয়া বন্ধ। রান্না ঘরে পানি উঠায় চিড়া-মুড়ি খেয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছি।

জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করার সময় হবিরবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহাম্মেদ বাচ্চু বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, আমি একাধিক বার পানি নিষ্কাশনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু স্থানীয় টিন কাদির (আ:কাদির),আলী হোসাইন, হাবি নেতা (মো: হাবিবুর রহমান)। এদের বাধার কারনে পানি নিস্কাশন করা যাচ্ছে না। আজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি তিনি জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে দু‘একদিনের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিবেন বলে আশ্বাস দেন।