মাতৃভাষা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে

মায়ের প্রতি সন্তানের ভালবাসা ও টান যেমন মাতৃভাষার প্রতিও প্রত্যেকের টান ও ভালবাসা তেমন। মানুষ জন্মলগ্ন থেকে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যে ভাষায় কথা বলে, সে ভাষায় কথা বলা তার সহজাত প্রভৃতি ও জন্মগত অধিকার।

আর ভাষার সঙ্গে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা অস্থিমজ্জা রক্ত মাংসের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বিধায় ইসলাম মানুষের এ জন্মগত অধিকার কেড়ে নেয় না বরং মাতৃভাষার সে অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করাকে ঈমানি দায়িত্ব বলে মনে করে।

আল্লাহ তাআলা মাতৃভাষাকে গুরুত্ব দিয়ে যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুলকে তাদের ভাষায় প্রেরণ করেছেন, এমনকি সে ভাষাতে আসমানি গ্রন্থও নাজিল করেছেন। যার প্রমাণ রয়েছে কুরআনুল কারিমে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের নিকট পরিস্কারভাবে (আল্লাহর হুকুম) ব্যাখ্যা করার জন্য, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও মায়ের ভাষায় কথা বলতে গর্ববোধ করতেন। তিনি বলতেন, ‘আরবদের মধ্যে আমার ভাষা সর্বাধিক সুফলিত। তোমাদের চাইতেও আমার ভাষা অধিকতর মার্জিত ও সুফলিত।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবচেয়ে উন্নত ও মার্জিত ভাষায় কথা বলতেন। কারণ তিনি আরবের সবচেয়ে মার্জিত ভাষার অধিকারী সাদিয়া গোত্রে (শিশুকাল ভাষা রপ্ত করার সময়) লালিত পালিত হয়েছিলেন।  এ কারণেই তিনি বলতেন, ‘আমি সর্বাধিক সুফলিত ভাষা ব্যক্ত করছি।’

সুতরাং মাতৃভাষা মানুষের জন্য আল্লাহ তাআলার সেরা দান বা অনুগ্রহ। তাইতো ভাষা নিয়ে গর্ব করা যায়। মাতৃভাষার চর্চা ও একে উন্নত করার অধিকার সবার একান্ত কর্তব্য। মাতৃভাষা চর্চা ও রক্ষাও প্রত্যেকের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষকে মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান রেখে এর সুন্দর ও উন্নত চর্চা এবং মর্যাদা রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।