মানসিক সমস্যায় কাপাসিয়া হরিমঞ্জুরী স্কুলের ছাত্রীরা?

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গত দু’দিনে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে ৭০ শিক্ষার্থী। তারা সবাই উপজেলা শহরস্থ কাপাসিয়া হরিমঞ্জুরী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। “মানসিক সমস্যার কারনে শিক্ষার্থীরা হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়তে পারে” বলছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বলছেন, চিকিৎসা শাস্ত্রের ভাষায় রোগটির নাম মাচ সাইকোজেনিক রোগ (mass psychogenic illness)।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে জানান, সোমবার ও মঙ্গলবার সকালে প্রতিদিনের মতো এসেম্বলী শেষে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একের পর এক অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। হাঠৎ করে শিক্ষার্থীদের মাথা ঘুরতে থাকে এবং তারা বমি করতে করতে দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে গত দু’দিনে প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা আকস্মিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়তে থাকলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 তিনি আরও জানান, অসুস্থ্য ৭০ শিক্ষার্থীদেরকে পাশ্ববর্তী সাফা-মারওয়া জেনারেল হাসপাতাল, পল্লী মডিউল হাসপাতাল সহ আরও কয়েকটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন সুস্থ হয়ে উঠেছে।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাকছুদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ডাক্তার (আরএমও) হাসান জামিল, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রাকিব হাসান বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। আরএমও হাসান জামিল অসুস্থ্য শিক্ষার্থীদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ হাসান জামিল বলেন, মানসিক সমস্যার কারনে শিক্ষার্থীরা হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়তে পারে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারন নেই। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার খেলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাকছুদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আমি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। কতৃপক্ষে সমন্বয়ে অর্ধদিবসের পর ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকালও বন্ধ থাকবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ সৈয়দ মো: মঞ্জুরুল হক বিজ্ঞাপন চ্যানেলকে বলেন, শিশু বা টিনেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো এক অজানা আতঙ্কের কারণে অথবা মানসিক চাপে মাচ সাইকোজেনিক রোগ দেখা দিতে পারে। আর এ রোগ বা আতঙ্ক কারো মধ্যে সৃষ্টি হলে তা দলগতভাবেই সৃষ্টি হয়। আক্রান্তরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে আবার সুস্থ হয়ে যায়। এতে আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই।