মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর গুম,খুন ও চাঁদাবাজি অব্যাহত

মোঃ রুহুল আমীন বিএসসি : মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নির্যাতনের ধরন পাল্টিয়ে অভিনব কায়দায় নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে।বিগত ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর অমানবিক ও অমানুষিক নির্যাতনে সারাবিশ্ব প্রতিবাদ মুখর। মিয়ানমার সরকারের মুসলিম নিধনের বিরুদ্ধে সারা বিশ্ব সোচ্চার। কফি আনান কমিশন ও ইন্দোনেশিয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিদর্শন শেষে রোহিঙ্গা মুসলিম নির্যাতন প্রমানিত হওয়ার পর মিয়ানমার আবারো নির্লজ্জভাবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নতুন করে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়সুত্র ও পরিদর্শন রিপোর্টে জানা যায়, আগুনে পুড়ে গ্রামের পর গ্রাম পুড়ে ছারখার করে ফেলেছে। শিক্ষিতদেরকে ধরে নিয়ে গুম করে ফেলা হচ্ছে। অর্থ ও বিত্তবানদের ধরে নিয়ে মোটা অংকের মুক্তিপন দাবী করে রাখাইন যুবকরা । অমানবিক নির্যাতন করে তাৎক্ষণিক সাজা দিয়ে তাদেরকে জেলে পুরেছে বার্মা সেনা পুলিশ।

গত শনিবার ভোর রাতে বুচিদং,নাইচ্ছাখালী ও ঢেকিবনিয়া থেকে সপরিবারে পালিয়ে এসে কুতপালং বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন সদস্য এমন তথ্য প্রদান করেন।

মিয়ানমার ঢেকিবনিয়া গ্রামের হুক্কাটা (স্থানীয় ভাষায় চেয়ারম্যান) দিলদার হোসেন (৪৫)পালিয়ে এসে কুতুপালং নতুন বস্তিতে বসে মিডিয়ার সাথে কথা বলেন। ছবি প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, তিনি ঢেকিবনিয়া এলাকার ৫০ একর চিংড়ি ,শতশত একর জমি ,গরু ছাগল, হাস,মুরগি ,কোটি টাকার ব্যবসা দোতলা বাগানবাড়ি ফেলে এখানে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। পুলিশ ও রাখাইন যুবকরা দফায় দফায় তার নিকট থেকে টাকা আদায় করে এবং চিংড়ি গেরে লুটপাট চালাচ্ছে। বার্মার সেনা পুলিশ তার উপর নজরদারী বৃদ্ধি করেছে।

মরিচ্যাবিল থেকে আসা তকলিমা খাতুন (২৫) জানান, তাঁর স্বামী ইসমাইল (৩০) গত বৃহস্পতিবার ধরে নিয়ে যাওয়ার পর কোন খোঁজ খবর নাই ।

কুতুপালং বস্তি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু সিদ্দিক জানান, বর্মী সেনা, পুলিশ ও রাখাইন যুবকরা নির্যাতনের ধরন পাল্টাচ্ছে । তাই এখনো রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে।